28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরূপলাল দাসের পরিবার হুমকির অভিযোগে মামলা তুলে নেওয়ার প্রচেষ্টা

রূপলাল দাসের পরিবার হুমকির অভিযোগে মামলা তুলে নেওয়ার প্রচেষ্টা

রংপুরের তারাগঞ্জে শ্বশুর-শাশুড়ি রূপলাল দাস ও জামাতা প্রদীপ লালের গণপিটুনিতে মৃত্যুর মামলায় বাদীকে হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগের ভিত্তিতে রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। মামলা তুলে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি নিরাপত্তাহীনতার শিকায় আছেন।

ভারতী রানী জানান, গত বছরের ৯ আগস্ট তার স্বামী রূপলাল দাস ও জামাতা প্রদীপ লালকে গোষ্ঠী গঠন করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি ঘটার পরপরই তিনি ১০ আগস্ট তারাগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে হত্যার মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ দ্রুত ১২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে।

মামলার মূল ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, রূপলাল দাস ও তার জামাতা প্রদীপ লাল মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

যাচাইয়ের সময় প্রদীপ লালের সঙ্গে থাকা একটি কালো ব্যাগ থেকে একটি পানীয়ের বোতল ও কিছু ওষুধ বেরিয়ে আসে। বোতলের ঢাকনা খুলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর উপস্থিত কিছু লোক অসুস্থ বোধ করে, ফলে উত্তেজনা বাড়ে এবং দুজনকে নিকটস্থ একটি বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে গণপিটুনি করা হয়। আহত অবস্থায় দুজনকে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং প্রদীপ লালকে গুরুতর আঘাতের সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ দ্রুত ১২ জনকে গ্রেফতার করে, তবে কিছু সন্দেহভাজন পরবর্তীতে জামিন পেয়ে মুক্তি পায়। মুক্তি পাওয়া মো. রুবেল পাইকার (৩০) ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে ভারতী রানী ও তার ছেলে জয়কে দেখে হুমকি দেয় যে তারা মামলা তুলে নেবে। একইভাবে আরেকজন আসামি সোহাগও বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও ভয় দেখাচ্ছেন।

ভারতী রানী অভিযোগ করেন, হুমকি প্রত্যাখ্যান করলে আসামিরা গালিগালাজের সঙ্গে মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের আশায় মামলা দায়ের করলেও এখন নিরাপত্তাহীনতার শিকায় আছেন; তার ছেলে ভয় পেয়ে স্বাভাবিকভাবে দোকান চালাতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে তিনি বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ লিখতে বাধ্য হয়েছেন।

অসামি রুবেল পাইকারের বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন। মামলায় বহু আসামি রয়েছে এবং তিনি কেন মামলা তুলে নেবেন তা অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারতী রানীকে তিনি চেনেন না এবং তার বাড়িতেও কখনো যাননি। সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

থানার ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, হুমকি সংক্রান্ত বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলায় এখনো ১২ জন আসামি রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

মামলাটি বর্তমানে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে; হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বাদী পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সব ধরনের আইনি সহায়তা নিতে প্রস্তুত।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে, হুমকি দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মামলার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments