বোলিভুডের প্রখ্যাত নির্মাতা এবং ধর্ম প্রোডাকশন্সের প্রধান কারন জোহর ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম থেকে জানিয়েছেন যে তিনি এক সপ্তাহের জন্য ডিজিটাল ডিটক্সে যাবেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সময়ে তিনি কোনো পোস্ট, ডিএম বা অনলাইন সংবাদে স্ক্রল করবেন না এবং নিজেকে এই বিরতির জন্য শক্তি কামনা করছেন। এই সিদ্ধান্তটি তার সামাজিক মিডিয়া উপস্থিতি থেকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জোহর সংক্ষিপ্তভাবে লিখেছেন, “এক সপ্তাহের জন্য ডিজিটাল ডিটক্স! কোনো ডুম স্ক্রলিং নয়, কোনো ডিএম নয়, কোনো পোস্ট নয়। ব্রহ্মাণ্ড আমাকে এই বিরতি বজায় রাখতে শক্তি দিক।” পোস্টে তিনি হাস্যরসের ছোঁয়া দিয়ে নিজের এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন এবং অনুসারীদেরকে এই সময়ে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এই ঘোষণার সময়ই ভারতীয় চলচ্চিত্র “হোমবাউন্ড” ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে দেশের অফিসিয়াল অস্কার এন্ট্রি হওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত মনোনয়নে না পৌঁছানোর পরের দিনটি ছিল। জোহরের চলচ্চিত্রের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় শিল্পের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা গিয়েছিল। তবে তিনি এই ফলাফলকে সরাসরি তার ডিটক্সের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেননি।
একই সময়ে জোহর সম্প্রতি ধর্ম প্রোডাকশন্সের দুইটি বড় হিট চলচ্চিত্রের সাফল্য উদযাপন করছিলেন। “ধুরন্ধর” এবং “বর্ডার ২” বক্স অফিসে বিশাল আয় করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। এই বাণিজ্যিক সাফল্য তার ক্যারিয়ারের একটি উজ্জ্বল পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
অস্কার মনোনয়নের পরের সপ্তাহে জোহর সামাজিক মিডিয়ায় নিজের পরিচালক নীরজ গায়ওয়ানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। তিনি গায়ওয়ানের কাজকে “ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ” বলে প্রশংসা করেন এবং তার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান জানিয়ে একটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ বার্তা শেয়ার করেন। এই মন্তব্যগুলো চলচ্চিত্রের শিল্পগত মানকে তুলে ধরার পাশাপাশি জোহরের ব্যক্তিগত মতামতকে প্রকাশ করে।
যদিও জোহর স্পষ্টভাবে ডিটক্সের কারণ হিসেবে অস্কার ফলাফলকে উল্লেখ করেননি, তার পোস্টে “ডুম স্ক্রলিং” শব্দটি ব্যবহার করে অনলাইন সংবাদে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাওয়া প্রকাশ পেয়েছে। এই শব্দটি বর্তমানে সামাজিক মিডিয়ায় নেতিবাচক মানসিক প্রভাবের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং জোহরের এই পদক্ষেপকে আধুনিক ডিজিটাল জীবনের চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি হিসেবে দেখা যায়।
ডিজিটাল ডিটক্সের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিল্প ও বিনোদন জগতে বাড়ছে। বহু সেলিব্রিটি ও সৃজনশীল পেশাজীবী মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনলাইন উপস্থিতি সীমিত করার চেষ্টা করছেন। জোহরের এই সিদ্ধান্তও এই প্রবণতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তার অনুসারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ডিটক্সের সময়কালে জোহর তার কাজের পরিকল্পনা ও চলচ্চিত্রের প্রচার কার্যক্রমকে সরাসরি সামাজিক মিডিয়া ছাড়া পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সপ্তাহের শেষে তিনি পুনরায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসবেন, তবে সেই সময়ে তিনি নিজের সৃজনশীলতা ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর বেশি মনোযোগ দেবেন। এই ঘোষণা তার ভক্ত ও শিল্প সমালোচকদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছে এবং ডিজিটাল যুগে মানসিক ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।



