গত কয়েক দিনে যুক্তরাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল—লেবার এবং কনজারভেটিভ—রিফর্ম ইউকে-র দ্রুত বর্ধমান প্রভাবের কারণে অস্থিরতা প্রকাশ করেছে। রিফর্মের নেতা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বে এই পার্টি উভয় বিরোধীর মধ্যে অনিশ্চয়তার সঞ্চার করেছে, যা পার্টি-ভিত্তিক গঠনকে পুনরায় ভাবতে বাধ্য করেছে।
লেবার পার্টি এখন এমন এক উদ্বেগের পর্যায়ে রয়েছে যেখানে তারা পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে রিফর্মের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে আছে। এই উদ্বেগের ফলে পার্টির অভ্যন্তরে স্টারমারের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নিয়ে প্রশ্ন তীব্রতর হয়েছে।
লেবার নেতাদের উদ্বেগের একটি মূল কারণ হল ম্যানচেস্টার মেয়রের অ্যান্ডি বার্নহামের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চালচলন, যা রিফর্মের উত্থানের প্রেক্ষাপটে আটকে গেছে। বার্নহামের পরিকল্পনা এখন লেবার পার্টির অভ্যন্তরে আলোচনার বিষয়, যা রিফর্মের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি রিফর্মের দিকে একাধিক উচ্চপদস্থ সদস্যের প্রস্থান দেখছে। এই মাসে মাত্র চারজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা পার্টি ত্যাগ করে রিফর্মে যোগ দিয়েছেন, যা কনজারভেটিভের ডানপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
সর্বশেষে, প্রাক্তন হোম সেক্রেটারি সুয়েলা ব্রাভারম্যান রিফর্মে যোগদান করেছেন। তিনি কনজারভেটিভের দীর্ঘমেয়াদী সদস্য ছিলেন এবং তার প্রস্থান পার্টির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্রাভারম্যানের আগে, দুই সপ্তাহ আগে প্রাক্তন চ্যান্সেলর নাদিম জাহাভি রিফর্মে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তার পরের সপ্তাহে রবার্ট জেনরিক রিফর্মে যোগ দেন, আর এক সপ্তাহ আগে অ্যান্ড্রু রোসিনডেল একই পদক্ষেপ নেন। এই ধারাবাহিক প্রস্থানগুলো কনজারভেটিভের ডানপন্থী শাখাকে দুর্বল করেছে।
ব্রাভারম্যান রিফর্মে যোগদানের সময় পার্টির এমন একটি বিশ্লেষণ শেয়ার করেন যে যুক্তরাজ্য বর্তমানে ভাঙা অবস্থায় রয়েছে, যা কনজারভেটিভের বর্তমান শাসনকালের রেকর্ডের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা হিসেবে প্রকাশ পায়।
জেনরিকের প্রস্থানকেও একই রকম সমালোচনামূলক মন্তব্যে চিহ্নিত করা হয়েছে; তিনি কনজারভেটিভের সাম্প্রতিক শাসনকালের দুর্বলতা তুলে ধরেছেন এবং রিফর্মের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।
এই প্রস্থানগুলো কনজারভেটিভের অভ্যন্তরে নতুন গতিশীলতা সৃষ্টি করেছে, যেখানে কেমি বেডনচের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। বেডনচের উত্থান রিফর্মের প্রভাবের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
কনজারভেটিভের পার্লামেন্টের বাইরে, একটি নতুন গোষ্ঠী ‘প্রসপার ইউকে’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই গোষ্ঠী পার্টির অভ্যন্তরে নীতি ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করতে চায়, তবে এখনো সংসদে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করে না।
রিফর্মের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি উভয় প্রধান পার্টির জন্য কৌশলগত পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। লেবারকে রিফর্মের সম্ভাব্য ভোটার বেসকে কীভাবে মোকাবেলা করবে এবং কনজারভেটিভকে প্রস্থানকারী নেতাদের ঘাটতি কীভাবে পূরণ করবে, তা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, রিফর্ম ইউকে-র উত্থান যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করছে। লেবার ও কনজারভেটিভ উভয়ই এই নতুন শক্তির মুখে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য, এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে রিফর্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



