ভেনেজুয়েলা’র ইন্টারিম প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ সোমবার তেল শিল্পে নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ করে ২০২৬ সালে ১.৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পূর্বাভাস দেন। তিনি ব্যবসায়িক সমাবেশে উল্লেখ করেন যে, এই পরিমাণ গত বছরের প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি হবে। রড্রিগেজের বক্তব্যের ভিত্তিতে তেল খাতে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে।
রড্রিগেজ জানান, গত বছর তেল খাতে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে এবং এই বছর ইতিমধ্যে ১.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। তেল শিল্পে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।
বৈধতা সংক্রান্ত বিলটি সংসদে পাস হলে দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকা তেল খাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সরাসরি উত্তোলনের অনুমতি দেবে। পূর্বে রাষ্ট্র তেল সংস্থা PDVSA-কে অধিকাংশ শেয়ার ধরে রাখতে বাধ্য করা হতো, তবে নতুন বিধান অনুযায়ী বেসরকারি সংস্থা কোনো যৌথ উদ্যোগে বাধ্য থাকবে না। আইনটি প্রথম পাঠে গত সপ্তাহে সংসদ সদস্যদের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে এবং শীঘ্রই চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেল সংরক্ষণে গর্ব করে, তবে উৎপাদন ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। রড্রিগেজের লক্ষ্য হল এই বিশাল সংরক্ষণকে উৎপাদনের দিক থেকেও বিশ্বে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে “বিশ্বের বৃহত্তম তেল সংরক্ষণকারী দেশ থেকে উৎপাদনের দিকেও বিশাল শক্তিতে রূপান্তরিত” করতে হবে। এই কৌশলগত পরিবর্তন দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইন্টারিম প্রেসিডেন্টের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপ রয়েছে, যাতে ইউ.এস. তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প রড্রিগেজকে মাদারোর পরবর্তী নেতা হিসেবে সমর্থন জানান, শর্তে যে তিনি তার নীতি অনুসরণ করবেন। এই আন্তর্জাতিক চাপ দেশীয় তেল নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন শীর্ষে ৩ মিলিয়ন ব্যারেল পার দিন থেকে ২০২০ সালে ঐতিহাসিক নিম্ন ৩৫০,০০০ ব্যারেল পার দিনে নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন পুনরুদ্ধার হয়ে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল পার দিন পৌঁছেছে। এই পুনরুদ্ধার নতুন বিনিয়োগের আগমনে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাইড্রোকার্বন বিলের প্রথম পাঠে সংসদ সদস্যদের সমর্থন পাওয়ার পর আইনটি কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রূপ নেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। একবার অনুমোদিত হলে বেসরকারি তেল কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তেল উত্তোলনের অধিকার প্রদান করবে, যা তেল বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা ও মূলধন প্রবাহ সৃষ্টি করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তেল শিল্পে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। তবে তেল মূল্যের বৈশ্বিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে। নতুন আইন ও বিনিয়োগের পূর্বাভাস দেশের তেল খাতের পুনরুজ্জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে বাস্তবায়নের সময়সীমা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে সতর্কতা প্রয়োজন।



