ইউরোপীয় গোল্ডেন শু পুরস্কারের জন্য এই মৌসুমে তিনজন খেলোয়াড়ই শীর্ষে। বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার কেইন, রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নরওয়েজিয়ান হলান্ডের গোলসংখ্যা একে অপরের কাছাকাছি। পয়েন্টের হিসাবের ভিত্তিতে কে সর্বোচ্চ স্কোর অর্জন করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
ইউরোপীয় গোল্ডেন শু পুরস্কারটি সেই খেলোয়াড়কে দেওয়া হয়, যিনি পুরো ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। পয়েন্টের গণনা করা হয় প্রতিটি গোলের জন্য লিগের মানের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে পাঁচটি শীর্ষ লিগের (ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, ইতালিয়ান সিরি এ, জার্মান বুন্দেসলিগা ও ফরাসি লিগ ১) প্রতি গোলের জন্য দুই পয়েন্ট দেওয়া হয়।
বায়ার্ন মিউনিখের কেইন এখন পর্যন্ত ২১ গোলের সঙ্গে বুন্দেসলিগার শীর্ষে রয়েছেন। তার পরের কোনো খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা তার কাছাকাছি নয়, ফলে তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্বতন্ত্র অবস্থানে আছেন। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তিনি ইউরোপীয় গোল্ডেন শুর প্রথম স্থান অর্জনের সম্ভাবনা বেশি।
বুন্দেসলিগার দ্বিতীয় স্থানটি দুই খেলোয়াড় ভাগ করে নিয়েছেন। ভিএফবি স্টুটগার্টের দেনিজ উনদাভ এবং বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে প্রত্যেকে ১০ গোল করে তালিকায় সমানভাবে অবস্থান করছেন। যদিও তাদের পয়েন্টের হার লিগের মানের ওপর নির্ভর করে, তবে কেইনের তুলনায় তারা এখনো পিছিয়ে।
ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের এমবাপ্পে ২১ গোলের সঙ্গে শীর্ষে আছেন। তার গোলসংখ্যা কেইনের সমান, ফলে দুজনেরই পয়েন্টের হিসাব সমান হলে শিরোপা ভাগ হতে পারে। লা লিগার শীর্ষে থাকা এই ফরাসি তারকার পারফরম্যান্সকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
লা লিগার দ্বিতীয় স্থানটি ভেদাত মুরিকি দখল করেছেন, যিনি ১৪ গোলের সঙ্গে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। যদিও তার গোলসংখ্যা শীর্ষের তুলনায় কম, তবে লিগের মানের কারণে তার পয়েন্টের হার এখনও উল্লেখযোগ্য।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হলান্ড ২০ গোলের সঙ্গে শীর্ষে আছেন। তার গোলসংখ্যা কেইন ও এমবাপ্পের চেয়ে একটি করে কম, তবে লিগের উচ্চ পয়েন্ট মানের কারণে তিনি শীর্ষে থাকার সম্ভাবনা বজায় রেখেছেন।
চতুর্থ স্থানে ব্রেন্টফোর্ডের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগো রয়েছেন, যিনি ১৬ গোলের সঙ্গে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। তার পারফরম্যান্সকে উচ্চ পয়েন্টের লিগে না থাকলেও, মোট পয়েন্টে তিনি শীর্ষ চারের মধ্যে স্থান পেয়েছেন।
পঞ্চম স্থানে পর্তুগালের বেনফিকায় খেলোয়াড় ভানগেলিস পাভলিডিস আছেন, যার গোলসংখ্যা ১৯। যদিও তার গোলসংখ্যা থিয়াগোর চেয়ে বেশি, তবে পর্তুগিজ লিগের প্রতি গোলের জন্য ১.৫ পয়েন্টের হার তার পয়েন্টকে শীর্ষের নিচে রাখে।
পয়েন্টের পার্থক্যই এই প্রতিযোগিতার মূল চালিকাশক্তি। শীর্ষ পাঁচ লিগের প্রতিটি গোল দুই পয়েন্টের সমান, যেখানে পর্তুগিজ লিগে প্রতি গোলের জন্য ১.৫ পয়েন্ট দেওয়া হয়। এই পার্থক্যই কেন পাভলিডিসের বেশি গোল সত্ত্বেও তিনি থিয়াগোর পরে অবস্থান করছেন তা ব্যাখ্যা করে।
কম পয়েন্টের লিগের উদাহরণ হিসেবে লাটভিয়ার ভিরসলিগা উল্লেখ করা যায়। রিগা এফসির দারকো লেমাজিক এখন পর্যন্ত ২৮ গোল করে শীর্ষে রয়েছেন, তবে তার লিগের প্রতি গোলের জন্য কম পয়েন্টের হার তাকে ইউরোপীয় গোল্ডেন শুর ষষ্ঠ স্থানে রাখে।
সারসংক্ষেপে, কেইন, এমবাপ্পে ও হলান্ডের গোলসংখ্যা সমান হলেও পয়েন্টের হিসাবের পার্থক্যই শিরোপার দিক নির্ধারণ করবে। শীর্ষ পাঁচ লিগের উচ্চ পয়েন্ট মানের খেলোয়াড়দের জন্য এই পুরস্কারটি এখনও উন্মুক্ত, আর লিগের মানের ওপর নির্ভরশীল পয়েন্টের পার্থক্যই ভবিষ্যতে কে শিরোপা জিতবে তা নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।



