কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনে রাত ৩টার কাছাকাছি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ঢাকা মেইল‑২ ট্রেনের চতুর্থ কোচ লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা‑সিলেট‑চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনা সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতের প্রায় ৩ টায় ঘটেছে এবং রেলপথের দুই দিকের সেবা থেমে গেছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাত ১১:৪৫ টায় রওনা হওয়া ট্রেনটি ভৈরব বাজার জংশনে রাত ২:৫৫ টায় পৌঁছায়। জংশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার অগ্রসর হওয়ার পর ইঞ্জিনের পরের চতুর্থ কোচটি লাইনচ্যুত হয়। কোচের লাইনচ্যুত হওয়ায় রেলপথের আপ ও ডাউন উভয় লাইনই অবিলম্বে বন্ধ করা হয়।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, দুর্ঘটনার পর কোচটি তৎক্ষণাৎ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। কোচের অবস্থান ও ক্ষতির মাত্রা নির্ণয়ের জন্য বিশেষ টেকনিক্যাল টিমকে জায়গায় পাঠানো হয়েছে।
লাইনচ্যুত কোচের কারণে আপ ও ডাউন উভয় দিকের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় রুটের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকে যায়। সিলেট, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম পথে যাত্রা করা যাত্রীদের জন্য গন্তব্যে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা পর্যন্ত কোচটি উত্তোলন করা না হওয়ায় রেলওয়ের দুই দিকের সেবা পুনরায় চালু করা যায়নি। ফলে ভৈরব বাজার জংশনের পূর্বে ও পরের স্টেশনগুলোতে অপেক্ষমান ট্রেনের সংখ্যা বাড়ে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
অবধি আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য অস্থায়ী শিবির গঠন করা হয় এবং মৌলিক খাবার ও পানীয় সরবরাহ করা হয়। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে কিছু যাত্রীকে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায়নি, ফলে তাদের ভোগান্তি বাড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও পরে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রিলিফ ট্রেনের সহায়তায় লাইনচ্যুত কোচের কিছু অংশ সরিয়ে তোলা শুরু হয় এবং জরুরি রেলপথ পরিষ্কারের কাজ চালু হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে এখনো পুরোপুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রেলপথের অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত আপ ও ডাউন উভয় দিকের ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকবে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রেন চালু করা হবে না।
দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কমিটি দুর্ঘটনার মূল কারণ, রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কোচের চাকার রেলপথের সাথে সংযোগে ত্রুটি থাকতে পারে। তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় রেলপথের সম্পূর্ণ পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় মেরামত কাজের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাস্থলে ফৌজদারি দায়ের সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাবে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, লাইনচ্যুত কোচের সম্পূর্ণ উত্তোলন এবং রেলপথের মেরামত শেষ হলে আপ ও ডাউন উভয় দিকের ট্রেন সেবা পুনরায় চালু করা হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রুটের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা, যেমন বাস ও রোড ট্রেন, ব্যবহারকারীদের জন্য অস্থায়ীভাবে চালু করা হবে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে রেলওয়ে কর্মীরা রাতারাতি কাজ করে আসছেন এবং রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বলা মতে, সম্পূর্ণ মেরামত ও পরিষ্কার কাজ শেষ হতে সর্বোচ্চ দুই দিন সময় লাগতে পারে, তবে তা রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পরেই হবে।



