23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যব্রিস্টলের নার্সের বিশ্বভ্রমণ ও আত্ম-ক্ষমার গল্প

ব্রিস্টলের নার্সের বিশ্বভ্রমণ ও আত্ম-ক্ষমার গল্প

ব্রিস্টল ভিত্তিক ৪৯ বছর বয়সী নার্স জ্যাকি ফার্নো, দুই সন্তানসহ গৃহিণী, দীর্ঘস্থায়ী বিবাহের মধ্যে এক সম্পর্কের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। বিচ্ছেদের আর্থিক সমঝোতা ব্যবহার করে তিনি একমুখী টিকিট বুক করে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে রওনা হন, যা তার জীবনের দিক পরিবর্তনের সূচনা করে।

বিকেলবেলা গৃহস্থালির দায়িত্ব ও আত্ম-দোষের ভারে ভুগে, তিনি একা একা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাওস, পাকিস্তান এবং ভারতসহ সাত বছরব্যাপী ভ্রমণ শুরু করেন। এই দীর্ঘ যাত্রা তাকে নিজের অতীতের সঙ্গে মোকাবিলা করার সুযোগ দেয় এবং নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

ভারতে একটি মাইলফলক ঘটে, যখন তিনি একটি ডাচ যুবকের সঙ্গে দেখা করেন, যিনি তার চেয়ে ১৭ বছর কম বয়সের এবং মোটরসাইকেলে দেশ ভ্রমণ করছিলেন। দুজনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় সত্ত্বেও, তিনি তাকে সাইকেলের পিছনে চড়তে আমন্ত্রণ জানায়, যা জ্যাকির জন্য অস্বাভাবিক হলেও স্বাভাবিকের মধ্যে অদ্ভুতকে স্বীকার করার একটি মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।

পরবর্তী সময়ে তিনি নিজস্ব মোটরসাইকেল ক্রয় করেন এবং ডাচ যুবকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তোলেন। যদিও এই সম্পর্ক মাত্র দুই দিনের পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে শুরু হয়, তবু তিন বছর ধরে তা টিকে থাকে এবং তার জীবনে নতুন রঙ যোগ করে। শেষ পর্যন্ত দুজনের পথ আলাদা হয়, তবে এই অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করে।

বিচ্ছেদের পরের বছরগুলোতে জ্যাকি নিজেকে অপরাধবোধে ডুবে থাকতে দেখেন, তিনি নিজের ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ করতেন এবং মনে করতেন যে পরিবারকে তিনি ধ্বংস করেছেন। এই আত্ম-দোষের অনুভূতি তাকে আরও বেশি করে দূরে সরে যাওয়ার দিকে ধাবিত করে, ফলে তিনি নিজের মনের অস্থিরতা ও দুঃখকে মোকাবিলা করার জন্য ভ্রমণকে এক ধরনের থেরাপি হিসেবে গ্রহণ করেন।

যাত্রার মাঝামাঝি সময়ে তার কন্যা তাকে ফোনে জিজ্ঞাসা করে, “তুমি কখন ফিরে আসবে? আমাদের মা দরকার।” এই প্রশ্নটি জ্যাকির জন্য একটি জাগরণবিন্দু হয়ে ওঠে, যেখানে তিনি বুঝতে পারেন যে তার সন্তান এখনও তাকে প্রয়োজন এবং তার প্রতি ভালোবাসা অটুট।

এই উপলব্ধি তাকে নিজের অতীতের সঙ্গে সমঝোতা করতে সাহায্য করে। তিনি স্বীকার করেন যে, যদিও তিনি একটি ভুল করেছেন, তবু নিজেকে ক্ষমা করা এবং আত্ম-সম্মান পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব ও আত্ম-সহানুভূতির ভূমিকা উপলব্ধি করেন।

আজ জ্যাকি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নিজের জীবনের নতুন দিক গড়ে তুলছেন। তিনি বলেন, আত্ম-ক্ষমা ও আত্ম-প্রেমের মাধ্যমে তিনি আবারও নিজের পরিচয় পুনর্গঠন করতে পেরেছেন এবং পরিবারে ফিরে এসে নতুন ভূমিকা গ্রহণ করছেন।

তার গল্পটি মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করে, যেখানে কঠিন সময়ে স্ব-পর্যালোচনা ও আত্ম-দয়া জীবনের দিক পরিবর্তন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, আত্ম-ক্ষমা এবং সমর্থনমূলক পরিবেশ মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।

এই ধরনের ব্যক্তিগত পরিবর্তনের পথে, পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সেবা, পরিবারিক সমর্থন এবং আত্ম-অনুসন্ধান একসাথে কাজ করে। জ্যাকির অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, আত্ম-ক্ষমা এবং নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষ তার জীবনের মান উন্নত করতে পারে।

আপনার কি কখনও এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে যেখানে নিজের ভুলের ফলে আত্ম-দোষের ভারে ভুগতে হয়েছিল? কীভাবে আপনি নিজেকে ক্ষমা করে নতুন পথে এগিয়ে গেছেন, তা শেয়ার করুন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments