23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইজরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে শেষ জিম্মি রান গভিলির মরদেহ উদ্ধার, রাফা ক্রসিং...

ইজরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা থেকে শেষ জিম্মি রান গভিলির মরদেহ উদ্ধার, রাফা ক্রসিং পুনরায় খুলতে পারে

ইজরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় ৮৪০ দিনের বেশি সময় ধরে আটক থাকা শেষ জিম্মি, পুলিশ কর্মকর্তা রান গভিলির মরদেহ, শনাক্ত করে দাফনের জন্য ফেরত এনেছে। এই পদক্ষেপটি গাজা ও মিশরের সীমান্তে অবস্থিত রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

গাজা থেকে দেহ উদ্ধার করার ঘোষণা ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে সোমবার প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গভিলির দেহ শনাক্ত করার পর তা নিরাপদে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রান গভিলি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েল অঞ্চলে হামাসের আক্রমণে নিহত হন। তার দেহ গাজায় ১ বছর বেশি সময় ধরে রাখা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মানবিক চুক্তির অধীনে জিম্মি সমস্যার সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে (নেসেট) এই দেহ উদ্ধারকে “অবিশ্বাস্য সাফল্য” বলে প্রশংসা করেন। তিনি গভিলিকে ইজরায়েলের একজন নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি প্রথমে লড়াইয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম শর্ত ছিল সব জিম্মি, জীবিত ও মৃত উভয়ই, ফেরত দেওয়া। এই শর্তের পূরণে রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলার দরজা খুলে যাবে বলে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী পূর্বে জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ৪৮ জন জিম্মি গাজায় অবশিষ্ট ছিলেন, যার মধ্যে ২৮ জনের মৃত্যু অনুমান করা হয়েছিল। রান গভিলি সেই তালিকার শেষ ব্যক্তি, যার দেহ এখন ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে।

গাজা প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের কমিটি রাফা সীমান্তের পুনরায় খোলার প্রস্তুতি জানিয়েছে। তবে ইজরায়েলি সরকারের মুখপাত্র সীমান্ত খোলার সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলা গাজা জনগণের মানবিক সংকট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে খাবার, চিকিৎসা সরবরাহ এবং পুনর্নির্মাণ সামগ্রী প্রবেশের ক্ষেত্রে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের প্রতিক্রিয়াও হতে পারে।

হামাসের সঙ্গে চলমান আলোচনায় জিম্মি হস্তান্তরের শর্ত পূরণ হয়েছে, তবে চুক্তির অন্যান্য ধারা, যেমন গাজা পুনর্নির্মাণ এবং নিরাপত্তা গ্যারান্টি, নিয়ে এখনও পারস্পরিক মতবিরোধ রয়ে গেছে। উভয় পক্ষই এই বিষয়গুলোতে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ শান্তি অর্জন কঠিন বলে বিবেচনা করছে।

ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর মতে, দেহের শনাক্তকরণ এবং ফেরত দেওয়া গাজা-ইজরায়েল সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল। তারা জোর দিয়ে বলছে, ভবিষ্যতে আরও মানবিক চুক্তি এবং জিম্মি সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

মিশরের সরকার রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং গাজা জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক সাহায্য সরবরাহে সহায়তা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপটি গাজা-ইজরায়েল সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

অবশেষে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই ঘটনা গাজা সংকটের একটি নতুন মোড় নির্দেশ করে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশগুলো গাজা-ইজরায়েল সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments