বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে; স্কটল্যান্ডকে নতুন দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এর মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার ব্যর্থতার পরে নেওয়া হয়। টুর্নামেন্টটি ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে এখন বাংলাদেশ সেখানে খেলবে না।
খেলাধুলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি পেতে সংগ্রাম করে আসছে। সর্ববৃহৎ জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখনো কোনো অলিম্পিক পদক অর্জন করেনি এবং পুরুষ ফুটবল ও হকি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনে দূরে রয়েছে। এই বাস্তবতা দেশের ক্রীড়া নীতিতে একধরনের চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।
এমন বহু ব্যর্থতার মাঝেও ক্রিকেট একমাত্র ক্ষেত্র যেখানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও অবকাঠামো দেশের ক্রীড়া পরিচয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। তাই ক্রিকেটকে দেশের ক্রীড়া গর্বের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিত হয় ১৯৯৯ সালে, যখন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওডিআই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। সেই সময় থেকে দলটি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে শুরু করে এবং ক্রমশ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে।
এরপর থেকে বাংলাদেশ মোট ১৬টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছে—সাতটি ওডিআই বিশ্বকাপ এবং নয়টি টি২০ বিশ্বকাপ। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে দলটি দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক উপস্থিতি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যদিও সাফল্যের মাত্রা সীমিত।
তবুও, ১৬টি সুযোগের পরও বাংলাদেশ কোনো ট্রফি অর্জন করতে পারেনি এবং কোনো বিশ্বকাপে কোয়ার্টারফাইনালের পরেও অগ্রসর হতে পারেনি। এই ফলাফল দলকে এখনও শীর্ষ স্তরের প্রতিযোগিতায় প্রবেশের পথে বাধা হিসেবে দেখায়।
২০২৪ সালের ১০ম টি২০ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশকে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সহ অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এবং দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ম্যাচের স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং ICC এর মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তাবলী নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা হয়নি। নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে পারস্পরিক মতবিরোধের ফলে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
স্কটল্যান্ডের দলকে নতুন অংশগ্রহণকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে টুর্নামেন্টের দলসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। এই পরিবর্তন টুর্নামেন্টের সূচি ও গ্রুপ গঠনেও প্রভাব ফেলে, তবে টুর্নামেন্টের সমগ্র কাঠামো বজায় থাকে।
বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। তবে দলটি এখনও আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে অন্যান্য সিরিজ ও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে প্রস্তুত, যা ভবিষ্যতে পুনরায় বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
আসন্ন সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা বিষয়ক অভ্যন্তরীণ নীতি পুনর্বিবেচনা করবে এবং ICC এর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের শর্ত পূরণে কাজ করবে। এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে পুনরায় বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



