সামাজিক মিডিয়া ও স্মার্টফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে; গড়ে মানুষ তিন ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনের সামনে থাকে, আর অনেক প্রাপ্তবয়স্কের স্ক্রিন সময় ছয় ঘণ্টা অতিক্রম করে। দীর্ঘ সময় নিকটদূরত্বে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখের শুষ্কতা, ক্লান্তি, দৃষ্টির ঝাপসা, মাথাব্যথা এবং নিকটদৃষ্টির অবনতি সহ নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। এই বাস্তবতা স্বীকার করে দক্ষিণ কোরিয়ার স্টার্ট‑আপ এডেনলাক্স, চোখ ও কানের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলা ডিজিটাল জীবনধারার জন্য প্রযুক্তি তৈরি করছে।
এডেনলাক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সুন্যং পার্কের নিজের চোখের সমস্যার অভিজ্ঞতা কোম্পানির মিশনের মূল ভিত্তি। সামরিক ডাক্তার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি গলায় তীব্র ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে একটি পেশী শিথিলকারী ইনজেকশন গ্রহণ করেন, যার ফলে চোখের ফোকাস করার দায়িত্বে থাকা পেশীগুলো সাময়িকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। চিকিৎসকরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও, পার্ক নিজে বিশেষ চক্ষু যন্ত্রপাতি আমদানি করে চোখের পেশী পুনরায় প্রশিক্ষণ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। এই ব্যক্তিগত সাফল্য তাকে চোখের স্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য প্রযুক্তি বিকাশে উদ্বুদ্ধ করে।
এডেনলাক্সের প্রথম পণ্য, ওটাস, ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান ও তাইওয়ানে বাজারে আসে। ওটাস একটি ভারী, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) শৈলীর ডিভাইস, যা লেন্সের মাধ্যমে চোখের পেশীকে সংকুচিত ও শিথিল করে দৃষ্টির প্রশিক্ষণ দেয়। এই পণ্যটি চিকিৎসা যন্ত্রের বদলে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এর ওয়েলনেস ক্যাটেগরিতে অন্তর্ভুক্ত, ফলে এটি দৃষ্টির প্রশিক্ষণ ও সাধারণ চোখের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন হিসেবে প্রচার করা যায়।
এডেনলাক্স এখন তার দ্বিতীয় ওয়েলনেস ডিভাইস, আইইয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত। আইইয়ারি দৈনিক দৃষ্টির পুনরুদ্ধার টুল হিসেবে পরিকল্পিত, যা ব্যবহারকারীকে স্ক্রিনের দীর্ঘ সময়ের পর চোখকে বিশ্রাম ও পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে। কোম্পানি মার্চের শেষের দিকে ইনডিগোগো প্ল্যাটফর্মে ক্রাউডফান্ডিং ক্যাম্পেইন চালু করার লক্ষ্য রাখছে, যাতে সরাসরি ভোক্তাদের কাছ থেকে সমর্থন পাওয়া যায়।
ইনডিগোগোতে তহবিল সংগ্রহের পছন্দের পেছনে পার্কের আর্থিক নীতি রয়েছে; তিনি বলেন, কোম্পানির কাছে কয়েক বছরের অপারেশন চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নগদ রিজার্ভ রয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীর তহবিলের ওপর নির্ভর না করেও প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এই কৌশলটি স্টার্ট‑আপকে স্বতন্ত্রভাবে পণ্য উন্নয়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেয়, পাশাপাশি ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে।
ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত চোখের সমস্যার সমাধানে এডেনলাক্সের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি আইইয়ারি সফলভাবে বাজারে 자리 করে, তবে এটি কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা মানুষদের জন্য একটি সহজ ও সাশ্রয়ী দৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি সরবরাহ করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো উচ্চ স্ক্রিন ব্যবহারকারী দেশগুলোতে এই ধরনের ওয়েলনেস ডিভাইসের চাহিদা বাড়তে পারে।
এডেনলাক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত, যেখানে তারা চোখের প্রশিক্ষণ ছাড়াও কানের স্বাস্থ্যের ওপরও সমাধান প্রদান করতে চায়। কোম্পানি বর্তমানে FDA ওয়েলনেস ক্যাটেগরির নিয়ম মেনে পণ্য বিকাশে মনোযোগী, যা দ্রুত বাজারে প্রবেশের সুবিধা দেয়। পার্কের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত এই উদ্যোগটি প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যকে একত্রিত করে, ডিজিটাল যুগে চোখের স্বাস্থ্যের নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করছে।
সারসংক্ষেপে, এডেনলাক্সের আইইয়ারি ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রে ইনডিগোগো ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে লঞ্চের পথে, যা স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত চোখের ক্লান্তি ও দৃষ্টির সমস্যার সমাধানে নতুন বিকল্প প্রদান করবে। কোম্পানির আর্থিক স্বনির্ভরতা ও FDA ওয়েলনেস ক্যাটেগরির সুবিধা এটিকে দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে সহায়তা করবে, এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত দৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তির ভিত্তি গড়ে তুলবে।



