ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে মঙ্গলবার থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মিডিয়া আসক্তি মামলায় শীর্ষ টেক নির্বাহীরা সাক্ষ্য দেবেন। মামলাটি ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর (প্রারম্ভিক অক্ষর KGM) অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে, যিনি দাবি করেন যে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম তার সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকে আসক্তিতে পরিণত করেছে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
KGM তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবের নকশা করা ফিচারগুলো তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা স্ক্রিনের সামনে বসতে বাধ্য করেছে, ফলে ঘুমের ব্যাঘাত, উদ্বেগ এবং খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন ঘটেছে। তার আইনজীবী মামলাটিকে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রথম বৃহৎ জুরি ট্রায়াল হিসেবে উল্লেখ করছেন।
প্রতিবাদী পক্ষের মধ্যে রয়েছে মেটা (ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মালিক), টিকটকের মূল কোম্পানি ByteDance এবং ইউটিউরের প্যারেন্ট গুগল। গত সপ্তাহে স্ন্যাপচ্যাটও একই অভিযোগে অভিযুক্তকে সমঝোতা করে মামলাটি বন্ধ করেছে।
এই মামলা লস এঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্টে শোনার জন্য নির্ধারিত, যা টেক শিল্পের ওপর বাড়তে থাকা আইনি চ্যালেঞ্জের একটি নতুন ধারা সূচনা করতে পারে। আইনজীবীরা দাবি করছেন যে এই মামলাটি টেক কোম্পানিগুলো যে আইনি তত্ত্ব ব্যবহার করে নিজেদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত রাখে, তা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
মেটা, গুগল এবং ByteDance প্রত্যেকেই বলছে যে KGM‑এর উপস্থাপিত প্রমাণগুলো কোম্পানিগুলোর সরাসরি দায়িত্ব প্রমাণে অপর্যাপ্ত। তারা যুক্তি দিচ্ছেন যে ব্যবহারকারীর মানসিক সমস্যার মূল কারণ বহুমুখী এবং শুধুমাত্র অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভরশীল নয়।
কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিচ্ছে যে ১৯৯৬ সালের কমিউনিকেশনস ডেসেনসিটি অ্যাক্টের ধারা ২৩০, যা তৃতীয় পক্ষের পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায় থেকে রক্ষা করে, তাদের দায়িত্ব সীমিত করে। তবে এই মামলায় মূল বিষয় হল অ্যালগরিদম, নোটিফিকেশন এবং অন্যান্য ডিজাইন উপাদানগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীর আচরণকে প্রভাবিত করে।
অভিযুক্তদের মতে, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য করা এই ডিজাইন পছন্দগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিকারক নয়। তবে মামলাকারী দল দাবি করছে যে এই ফিচারগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তৈরি, যা আসক্তি সৃষ্টি করে।
অভিযুক্তের আইনজীবী জোর দিয়ে বলছেন যে জুরি যদি এই ডিজাইন পছন্দগুলোকে সরাসরি ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত করে, তবে কোম্পানিগুলোকে তাদের লাভের জন্য ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি স্বীকার করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশে অনুরূপ সমস্যায় ভোগা তরুণদের সংখ্যা বাড়ছে।
একজন আইন অধ্যাপক উল্লেখ করেছেন যে যদি এই ধরনের মামলায় জুরি কোম্পানিগুলোকে দায়ী করে, তবে এটি টেক শিল্পের ব্যবসায়িক মডেলের জন্য বড় হুমকি হতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন যে অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
এই মামলাটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আইনি দায়িত্বের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে যখন ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হয়। বিচারকরা এখন অ্যালগরিদমের নকশা ও বিজ্ঞপ্তি পদ্ধতির বৈধতা ও নৈতিকতা মূল্যায়ন করবেন।
মামলার ফলাফল টেক শিল্পের নীতি ও নিয়মাবলীর ওপর প্রভাব ফেলবে, এবং ভবিষ্যতে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা গঠন করবে তা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীর সুরক্ষা ও কোম্পানির লাভের মধ্যে সমতা রক্ষা করা হবে কি না, তা এখনই বিচারকের হাতে।



