কেনিয়ার কিলিফি কাউন্টির বিনজারো গ্রামে ৫২ জনের মৃত্যু সংক্রান্ত নতুন মামলার জন্য গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চের স্ব-নিযুক্ত পাস্টর পল এনথেঞ্জে ম্যাকেনজিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হবে। প্রোসিকিউটররা সোমবার টুইটারে জানিয়েছেন যে, আদালতে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মৃত্যুর অভিযোগ আনতে অনুমোদন পেয়েছে।
ম্যাকেনজি ২০২৩ সালে গ্রেফতার হন, যখন শাখাহোলা বনাঞ্চলে গোপন কবরস্থানে ৪২৯ দেহ, যার মধ্যে শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত, উদ্ধার করা হয়। তার গ্রেফতারের পর থেকে তিনি জেলখানায় আছেন এবং এখন পর্যন্ত বহু হত্যার অভিযোগের মুখে আছেন।
প্রোসিকিউশন দল উল্লেখ করেছে যে, ম্যাকেনজি জেলখানার কোষে থেকে লিখিত নোটের মাধ্যমে নতুন শিকারীদের মৃত্যুর দিকে ধাবিত করেছেন। এই নোটগুলোতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের বিবরণও পাওয়া গেছে, যা তদন্তকারীদের মতে অপরাধের পরিকল্পনার অংশ।
অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাকেনজি এবং তার সহ-অভিযুক্তদেরকে ‘উগ্রবাদের প্রচার’, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা’ এবং ‘হত্যা’ সহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য দায়ী করা হবে। শাখাহোলা কবরস্থানের মূল মামলার সঙ্গে এই নতুন অভিযোগগুলো যুক্ত হবে।
বিনজারো গ্রাম, যা শাখাহোলা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় মহাসাগরের তীরে অবস্থিত, সেখানে গত বছর প্রায় ৩৪টি দেহ এবং ১০০টিরও বেশি দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। এই আবিষ্কারই নতুন মামলার সূত্রপাতের প্রধান কারণ।
দুই সপ্তাহ আগে, শাখাহোলা কবরস্থানের পূর্ব নিরাপত্তা প্রধান এনোস আমান্যি নগালা গিলেনি, যিনি ১৯১ শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি মামলায় নতুন দিক যোগ করেছে এবং তদন্তকে ত্বরান্বিত করেছে।
বেঁচে থাকা শিকারীরা জানান, শিষ্যদের প্রথমে শিশুরা উপবাসের মাধ্যমে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হতো। এই পদ্ধতি গির্জার গোপন শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রচারিত হতো, যা অনুসারীদেরকে আত্মত্যাগের পথে ধাবিত করত।
প্রোসিকিউশন অফিসের বিবৃতি অনুসারে, ম্যাকেনজি ‘বিনজারো হোমস্টেডে ঘটিত মৃত্যুর মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে সন্দেহভাজন। তিনি উগ্র ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে অনুসারীদেরকে দূরবর্তী গ্রামে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে আত্মহত্যা করতে উত্সাহিত করতেন।
ম্যাকেনজি বর্তমানে সকল অভিযোগের বিরুদ্ধে ‘দোষী নয়’ বলে আপিল করেছেন এবং তার আইনজীবীরা মামলার বৈধতা ও প্রমাণের যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তবে আদালত এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অনুমোদন দিয়েছে।
এই মামলায় অতিরিক্তভাবে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা’ এবং ‘উগ্রবাদের প্রচার’ সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা পূর্বের শাখাহোলা কবরস্থানের মামলায় না থাকলেও এখন নতুন আইনি দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
কেনিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী উভয়ই এই মামলাকে দেশের ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সম্ভাব্য উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ হিসেবে দেখছে।
অধিক তথ্যের জন্য অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অফ পাবলিক প্রসিকিউশন (ODPP) এর অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিবৃতি অনুসরণ করা যেতে পারে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা এখনো বাকি।



