ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ মার্কিন সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করে একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে জানিয়েছেন যে দক্ষিণ কোরিয়ার আমদানি পণ্যের শুল্ক ২৫% করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই পদক্ষেপটি সিয়োলের সঙ্গে গত বছর সম্পন্ন বাণিজ্য চুক্তি অনুসরণে না হওয়া মানদণ্ডের কারণে নেওয়া হয়েছে।
শুল্কের হার পূর্বে ১৫% ছিল এবং নতুন হারটি অটোমোবাইল, কাঠ, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অন্যান্য পারস্পরিক শুল্কে প্রযোজ্য হবে। এই পরিবর্তনটি বিভিন্ন পণ্যের ওপর সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে, ফলে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাবে।
গত অক্টোবর দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৫৬ বিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ঐ বিনিয়োগের একটি অংশ জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনসভা এই চুক্তি অনুমোদনে ধীরগতি দেখাচ্ছে, যেখানে মার্কিন সরকার দ্রুত শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে চুক্তি মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তিনি এই পার্থক্যকে চুক্তির অমিলের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
শুল্কের অর্থ সরাসরি আমদানিকারক কোম্পানিগুলো প্রদান করে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ক্রয়কৃত পণ্যের ওপর ২৫% অতিরিক্ত কর বহন করবে, যা শেষ গ্রাহকের মূল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের শুল্ক নীতি তার দ্বিতীয় মেয়াদে বিদেশ নীতি চালানোর একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত। তিনি পূর্বে বিভিন্ন দেশকে লক্ষ্য করে শুল্ক বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কানাডাকে চীন সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করলে ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
এর আগে, ট্রাম্প আটটি দেশ, যার মধ্যে যুক্তরাজ্যও অন্তর্ভুক্ত,কে আমদানি কর আরোপের কথা উল্লেখ করেন, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনাকে বিরোধিতা করেছিল। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ন্যাটো সদস্য।
পরবর্তীতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করেন, কারণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ভবিষ্যৎ চুক্তির দিকে অগ্রগতি দেখা গিয়েছিল। তবে এই ঘটনা মার্কিন সরকার এবং ডেনমার্ক ও অন্যান্য ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ককে কিছুটা তিক্ত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শুল্ক বৃদ্ধি উভয় দেশের বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে উচ্চ শুল্কের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিলম্বিত হতে পারে এবং দু’দেশের অর্থনৈতিক সংযোগে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ভবিষ্যতে শুল্কের পুনর্বিবেচনা বা চুক্তির পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।



