ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে এভারটন এবং লিডস ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে। দু’দলই প্রথমার্ধে আধিপত্য দেখিয়ে শেষার্ধে পরিবর্তনের মাধ্যমে সমতা বজায় রেখেছে। এভারটনের নতুন আক্রমণকারী থিয়ের্নো ব্যারির চতুর্থ গোলই ম্যাচের মূল মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
থিয়ের্নো ব্যারি, ভিলাররিয়াল থেকে গ্রীষ্মে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডে এভারটনে যোগদান করেন, এবং এই মৌসুমে পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে চারটি গোলের রেকর্ড গড়ে তুলেছেন। তার প্রথম ১৬টি উপস্থিতিতে কোনো গোল না থাকলেও, শেষ দশটি শুটে পাঁচটি গোল করে তিনি নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করেছেন।
লিডসের কোচ ড্যানিয়েল ফার্কের দলটি প্রথমার্ধে বেশী আধিপত্য দেখিয়ে জেমস জাস্টিনের মাধ্যমে স্কোর করে। নটিংহাম ফরেস্ট এবং ওয়েস্ট হ্যামের সপ্তাহান্তের জয় পরবর্তী ম্যাচে লিডসের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেয়। ফার্কের মিডফিল্ড পাঁচজনের গঠন এবং ব্রেনডেন আরনসনের সক্রিয়তা এভারটনের রক্ষণকে প্রভাবিত করে।
এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েসের অর্ধ-সময় পরিবর্তনগুলো দলকে নতুন গতিতে চালিত করে। খেলোয়াড়ের পজিশন ও ফরমেশন পরিবর্তন করে তিনি আক্রমণকে পুনরুজ্জীবিত করেন, যা শেষার্ধে লিডসের গোলরক্ষক কার্ল ডার্লোর উপর চাপ বাড়ায়। ডার্লো প্রথমে তেমন পরীক্ষা পায়নি, তবে ব্যারির চমৎকার শট তাকে চ্যালেঞ্জ করে।
ময়েস ব্যারির গোলের প্রশংসা করে বলেন, “তিনি তরুণ ফরাসি অধিনায়ক, যার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, এবং এখন ক্লাবের পরিবেশে অভ্যস্ত হচ্ছেন। তার গোলটি ক্লাসিক উদাহরণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রিমিয়ার লিগে অনেক দামী স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্স সহজ নয়, তবে ব্যারি ধীরে ধীরে তার জায়গা তৈরি করছেন।”
ম্যাচের আগে এভারটন টমি রাইটের স্মরণে এক মুহূর্তের আপ্লজ দিয়েছে। রাইট, ক্লাবের প্রাক্তন ডিফেন্ডার, ১৯৬৬ সালে এফএ কাপ জিতেছিলেন, ১৯৭০ সালে লিগ শিরোপা জিতেছিলেন এবং একই বছরে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপেও অংশগ্রহণ করেন। তার স্মৃতিচারণা ম্যাচের আবহকে কিছুটা গম্ভীর করে তুলেছিল।
লিডসের প্রথমার্ধের আধিপত্যের পরেও এভারটন দ্রুতই সমতা অর্জনের পথে এগিয়ে যায়। ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইন, যাকে দর্শকরা উল্লাস ও হালকা নিন্দা দুটোই দিয়েছিলেন, তার উপস্থিতি ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল। তবে তার পারফরম্যান্সে কোনো উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ না পেয়ে তিনি নীরব রইলেন।
দ্বিতীয়ার্ধে এভারটনের আক্রমণ পুনরায় চালু হয়, এবং ব্যারির শটটি গন্তব্যে পৌঁছায়। তার শটটি সঠিক সময়ে এবং সঠিক কোণে গিয়ে গলপোস্টের নিচে ঢুকে যায়, যা লিডসের গোলরক্ষককে অপ্রস্তুত রাখে। এই গোলটি এভারটনের পয়েন্ট নিশ্চিত করে এবং ব্যারির শুটিং রেকর্ডকে আরও শক্তিশালী করে।
লিডসের কোচ ফার্ক ম্যাচের পর মন্তব্য করেন, “প্রথমার্ধে আমরা ভাল খেলেছি, তবে দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তনগুলো আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেনি। জেমস জাস্টিনের গোলটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত আমরা পয়েন্ট হারিয়েছি।” তিনি দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষজনক না হওয়ার ইঙ্গিত দেন।
দুই দলের কোচই ম্যাচের পর আরও কিছু পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করেন। ময়েস বলছেন, “অর্ধ-সময়ের পরিবর্তনগুলো সঠিক ছিল, তবে আমরা আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারতাম।” ফার্কও যোগ করেন, “আমাদের মিডফিল্ডের গঠন পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে রক্ষণে ফাঁক না থাকে।”
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, এভারটন প্রথমার্ধে কম শট তুললেও দ্বিতীয়ার্ধে শটের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে। লিডসের শটের গড় বেশি ছিল, তবে তাদের শটের গন্তব্যে পৌঁছানোর হার কম ছিল। উভয় দলই রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখিয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচে সংশোধন করা প্রয়োজন।
এই ফলাফলে এভারটনের লিগ টেবিলে পয়েন্ট যোগ হয়েছে, যেখানে তারা এখন মধ্যম স্তরে অবস্থান করছে। লিডসের জন্য এই ড্রটি তাদের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় কিছুটা বাধা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নটিংহাম ফরেস্ট ও ওয়েস্ট হ্যামের জয় পরবর্তী চাপের মধ্যে।
পরবর্তী সপ্তাহে এভারটন হোম গ্রাউন্ডে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা পয়েন্ট বাড়িয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠতে চায়। লিডসও তাদের পরবর্তী গেমে পুনরায় জয় অর্জনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয় দলের জন্য এই ফলাফল ভবিষ্যৎ গেমের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ম্যাচের শেষের দিকে উভয় দলের সমর্থকই মাঠে উল্লাস ও নীরবতা মিশ্রিত করে উপস্থিত ছিলেন। এভারটনের সমর্থকরা ব্যারির গোলের পর উল্লাসে মাতিয়ে তুলেছিলেন, আর লিডসের সমর্থকরা প্রথমার্ধের আধিপত্যের জন্য প্রশংসা প্রকাশ করেন।
সারসংক্ষেপে, এভারটন ও লিডসের এই ম্যাচটি উভয় দিকের জন্য শিক্ষণীয় ছিল। এভারটনের নতুন আক্রমণকারী ব্যারির পারফরম্যান্স দলকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এনে দিয়েছে, আর লিডসের প্রথমার্ধের আধিপত্য সত্ত্বেও শেষার্ধে পরিবর্তনের অভাব তাদের পয়েন্ট হারাতে বাধ্য করেছে।



