লিজ সার্জেন্টের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘টেক মি হোম’ যুক্তরাষ্ট্রের সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে নাট্য বিভাগে অংশগ্রহণ করেছে। ছবিটি ৩০‑এর দশকে থাকা অ্যানা নামের এক নারীর জীবনের সূক্ষ্ম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে, যিনি জ্ঞানগত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তার বৃদ্ধ পিতামাতার সঙ্গে উপশহরে বাস করেন।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্র অ্যানা, বাস্তব জীবনের অ্যানা সার্জেন্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যিনি কোরিয়ান দত্তক গ্রহণকারী, প্রতিবন্ধকতা অধিকারকর্মী এবং ক্রীড়াবিদ। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে চরিত্রের শিশুসুলভ রসিকতা ও সংবেদনশীলতা তুলে ধরেছেন, যা গল্পে স্বাভাবিক মানবিক স্পর্শ যোগ করে।
‘টেক মি হোম’ মূলত ২০২৩ সালের একই নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সম্প্রসারণ, যা আমেরিকান সিনেমাথেকের প্রুফ অফ কনসেপ্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শীর্ষ পুরস্কার অর্জন করেছিল। এই স্বীকৃতি চলচ্চিত্রের মূল ধারণা ও নির্মাণের গুণমানকে তুলে ধরেছে।
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা দুটোই লিজ সার্জেন্টের দায়িত্বে, যিনি গল্পের গম্ভীর দিকগুলোকে হালকা হাস্যরসের সঙ্গে মিশিয়ে দেখেছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি দর্শকের মনোযোগকে এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত করলেও, শক্তিশালী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারস্পরিক ক্রিয়া গল্পকে সুষম রাখে।
চিত্রে অ্যানা সার্জেন্টের পাশাপাশি ভিক্টর স্লেজাক, মার্সেলিন হুগট, আলি আহন এবং শেন হ্যাপার অভিনয় করেছেন। ভিক্টর স্লেজাক ও মার্সেলিন হুগট অ্যানার অবসরপ্রাপ্ত পিতামাতার ভূমিকায় উপস্থিত, যারা দৈনন্দিন আর্থিক ও পারিবারিক দায়িত্বে ব্যস্ত।
চলচ্চিত্রের সময়কাল এক ঘণ্টা একত্রিশ মিনিট, যা সানড্যান্সের নাট্য প্রতিযোগিতার সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য স্থান পেয়েছে। গল্পের গঠন অ্যানার দৈনন্দিন রুটিনের ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলোকে বড় সংকটের সূচনা হিসেবে দেখায়, যা তার মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে।
চিত্রের দৃশ্যাবলি অরল্যান্ডোর একটি মধ্যবিত্ত বাড়িতে স্থাপিত, যেখানে অ্যানা ও তার বাবা-মা শান্তিপূর্ণ রুটিনে বিল পরিশোধ ও গৃহকর্মে ব্যস্ত। তবে অ্যানার অপ্রত্যাশিত আচরণ কখনো কখনো পারিবারিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়, যা পরিবারিক সংযোগের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে প্রকাশ করে।
‘টেক মি হোম’ কেবল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অভিজ্ঞতা নয়, বরং যত্নশীল পরিবারের দৈনন্দিন সংগ্রাম ও হাস্যরসের মিশ্রণও তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটি গম্ভীর বিষয়গুলোকে হালকা স্বরে উপস্থাপন করে, যা দর্শকের জন্য সহানুভূতিশীল ও বিনোদনমূলক উভয়ই।
লিজ সার্জেন্টের পরিচালনায় গল্পের অপ্রত্যাশিত মোড়গুলো কখনো কখনো দর্শকের মনোযোগকে বিচ্যুত করে, তবে শক্তিশালী কাস্টের পারস্পরিক ক্রিয়া তা সমন্বয় করে। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রকে একধরনের তাজা ও অপ্রত্যাশিত রূপ দেয়, যা সানড্যান্সের প্রতিযোগিতায় আলাদা স্বাদ যোগ করেছে।
চলচ্চিত্রের সাফল্য ও স্বীকৃতি তার মূল স্বল্পদৈর্ঘ্য সংস্করণের পুরস্কার জয়ের সঙ্গে যুক্ত, যা আমেরিকান সিনেমাথেকের ফেস্টিভ্যালে শীর্ষে ছিল। এই পুরস্কার চলচ্চিত্রের ধারণা ও বাস্তবায়নের গুণমানকে স্বীকৃতি দিয়েছে, ফলে পূর্ণদৈর্ঘ্য সংস্করণে আরও বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
‘টেক মি হোম’ সানড্যান্সে প্রদর্শিত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সাহীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। চলচ্চিত্রটি কেবল কল্পনাপ্রবণ নয়, বরং বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ও মানবিক সংযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে, যা দর্শকদের মধ্যে গভীর প্রতিফলন জাগায়।
সারসংক্ষেপে, লিজ সার্জেন্টের ‘টেক মি হোম’ একটি সূক্ষ্মভাবে নির্মিত গল্প, যা কগনিটিভ প্রতিবন্ধকতা, পারিবারিক যত্ন এবং হালকা হাস্যরসের সমন্বয়ে একটি অনন্য চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতা প্রদান করে। সানড্যান্সের নাট্য বিভাগে এর উপস্থিতি চলচ্চিত্রের শিল্পগত মান ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতাকে প্রমাণ করে।



