পেনসিলভানিয়া রাজ্যের গবর্নর জোশ শাপিরো সোমবার সন্ধ্যায় স্টিফেন কলবার্টের দেরি রাতের টক শো “দ্য লেট শো”-এ উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। শাপিরোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তার প্রশাসনিক নীতি ও আসন্ন নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। শোটি নিউ ইয়র্কের টেলিভিশন নেটওয়ার্কে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে, ফলে বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর সামনে তার বক্তব্য পৌঁছাবে।
এই উপস্থিতির ওপর সম্প্রতি ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা টক শো ও দিনের সময়ের প্রোগ্রামগুলোর জন্য পূর্বে প্রযোজ্য সমান সময়ের ব্যতিক্রম রদ করার সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। নির্দেশিকাটি গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয় এবং এতে বলা হয়েছে যে, কোনো প্রোগ্রাম যদি রাজনৈতিক প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের অংশ হিসেবে না থাকে, তবে তা সমান সময়ের নিয়মের আওতায় আসতে পারে।
সমান সময়ের নীতি মূলত টেলিভিশন স্টেশনগুলোকে বাধ্য করে একই নির্বাচনী চক্রের দুই প্রার্থীর জন্য সমান সম্প্রচার সময় প্রদান করতে। এই দায়িত্ব স্টেশনগুলোকে নিজে পালন করতে হয়, শো বা নেটওয়ার্ককে নয়। যখন কোনো প্রার্থীকে বিনামূল্যে সময় দেওয়া হয়, তখন স্টেশনটি তার রাজনৈতিক ফাইলের মধ্যে রেকর্ড রাখে, এবং বিরোধী প্রার্থী সমান সুযোগের দাবি করতে পারে।
ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯০-এর দশক থেকে দেরি রাতের ও দিনের টক শোগুলোকে এই নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সময়ে টক শো প্রযোজকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তাদের প্রোগ্রামগুলো “বোনা ফাইড” সংবাদ সাক্ষাৎকারের মতো, তাই সেগুলোকে সংবাদ প্রোগ্রামের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
১৯৯৬ সালে জে লেনোর “দ্য টুনাইট শো”-এর প্রযোজকরা একই যুক্তি তুলে ধরে একটি ব্যতিক্রম পেয়েছিলেন। তারা দাবি করেন যে, শোটি সত্যিকারের সংবাদ সাক্ষাৎকারের অংশ অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে তা সংবাদ প্রোগ্রামের মতোই বিবেচিত হওয়া উচিত। FCC সেই সময়ে এই যুক্তি গ্রহণ করে টক শো ও দিনের প্রোগ্রামগুলোকে সমান সময়ের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয়।
সেই সিদ্ধান্তের পরপরই, ১৯৯৭ সালে “দ্য ভিউ” নামের একটি টক শো চালু হয়, যা একই রকম ব্যতিক্রমের সুবিধা পায়। তবে FCC এখনো এই ব্যতিক্রমের বৈধতা নিয়ে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি দেয়নি।
FCC বুধবার, ২১ জানুয়ারি, প্রকাশিত নির্দেশিকায় উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান সময়ে কোনো দেরি রাতের বা দিনের টক শো প্রোগ্রামের সাক্ষাৎকার অংশকে “বোনা ফাইড” সংবাদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তারা জানিয়েছে যে, এমন কোনো প্রমাণ নেই যা দেখায় যে এই প্রোগ্রামগুলো সংবাদিক মানদণ্ড পূরণ করে।
এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, শাপিরোর কলবার্ট শোতে উপস্থিতি FCC-এর সমান সময়ের নীতির আওতায় পড়বে না, কারণ শোটি এখনও টক শো হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ এবং কোনো “বোনা ফাইড” সংবাদ ব্যতিক্রমের মানদণ্ডে পৌঁছায়নি। ফলে গবর্নরকে অতিরিক্ত সমান সময়ের দাবি করা সম্ভব নয়।
FCC এই সিদ্ধান্তে জোর দিয়েছে যে, যদি ভবিষ্যতে কোনো টক শো সত্যিকারের সংবাদ সাক্ষাৎকারের মতো বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে, তবে তা পুনরায় মূল্যায়ন করা হতে পারে। তবে বর্তমান নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, প্রোগ্রামের বিষয়বস্তু যদি রাজনৈতিক প্রচারমূলক না হয়, তবে সমান সময়ের নীতি প্রয়োগ করা হবে না।
টক শো প্রযোজকরা এই নতুন নির্দেশিকাকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা উল্লেখ করেছে যে, পূর্বের ব্যতিক্রমের ভিত্তিতে শোটি এখনও সংবাদিক স্বভাবের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে FCC-এর স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া কোনো পরিবর্তন আনা কঠিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, শাপিরোর এই উপস্থিতি তার নির্বাচনী প্রচারকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, তবে সমান সময়ের নীতি না প্রয়োগের ফলে বিরোধী প্রার্থীর কাছ থেকে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা দেখা দেবে না। এই পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রচার কৌশলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারে।
পরবর্তী সময়ে FCC কীভাবে এই নির্দেশিকাকে বাস্তবায়ন করবে এবং টক শো প্রোগ্রামগুলো কীভাবে নিজেদের বিষয়বস্তু সামঞ্জস্য করবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। শাপিরোর কলবার্ট শোতে সাক্ষাৎকারের পরবর্তী প্রভাবও মিডিয়া ও নির্বাচনী বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



