সাভারের আশুলিয়া এলাকায় সোমবার বিকালে ৩১ বছর বয়সী ঝুট ব্যবসায়ী আজাদকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলটি আশুলিয়ার ছয়তলা বাজারের কাছাকাছি, যেখানে আজাদ তার ঝুটের গুদাম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। গুলি চালানোর পর অপরাধীরা তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায়, আর স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তক্ষরণ থামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আজাদ, যিনি ইউনুসের পুত্র এবং জামগড়া এলাকার বাসিন্দা, দীর্ঘদিন থেকে আশুলিয়ার ঝুট ব্যবসা চালাচ্ছেন। তার পরিবার জানায়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি গুদামের ভিতরে ছিলেন এবং কোনো সতর্কতা ছাড়াই গুলি করা হয়। গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট সময় ও দিক সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গোলাবারুদের কাছ থেকে শোনা যায়, গুলি শোনার পরই কয়েকজন স্থানীয় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আজাদকে জরুরি সেবা প্রদান করে এবং নিকটবর্তী এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, চিকিৎসক ডা. এনামুল হক মিয়া জানান, গুলি তার পেটের দিকে আঘাত করেছে এবং রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে তৎক্ষণাত্ শল্যচিকিৎসা করা হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আজাদকে অপারেশন থিয়েটারে স্থানান্তর করা হয়। শল্যচিকিৎসার পর তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে, তবে শারীরিক ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে হাসপাতালে উপস্থিতি বজায় রয়েছে।
আশুলিয়া থানার ওসিআই রুবেল হাওলাদার ঘটনাটি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, পুলিশ现场 পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। গুলি চালানোর সরঞ্জাম ও গুলি চালানোর ব্যক্তির সনাক্তকরণের জন্য ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে।
পুলিশের মতে, গুলি চালানোর পেছনে ঝুট ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে কোনো বিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। আশুলিয়া ও আশেপাশের এলাকায় ঝুট চালকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ব্যবসায়িক সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে, যা এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা গুলিবিদ্ধের শত্রু সনাক্ত করা যায়নি।
তদন্তের অংশ হিসেবে, পুলিশ স্থানীয় দোকানদার ও গুদাম মালিকদের সাক্ষাৎকার নেয় এবং সিসিটিভি ক্যামেরা রেকর্ডিং সংগ্রহ করে। এছাড়া, গুলি চালানোর সময়ের নিকটবর্তী গাড়ি ও মোবাইল ফোনের ডেটা বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো দাখিল হয়নি। রুবেল হাওলাদার উল্লেখ করেন, যদি শিকারের আত্মীয়স্বজন বা কোনো সাক্ষী অভিযোগ দায়ের করেন, তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে, তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের পরই আরও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। কিছু বাসিন্দা উল্লেখ করেন, আশুলিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধের ঘটনা আগে খুব কমই ঘটেছে, তাই এই ঘটনা তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের মতে, গুলি চালানোর উদ্দেশ্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির সনাক্তকরণে সময় লাগতে পারে, তবে তারা সকল সম্ভাব্য সূত্র অনুসন্ধান করবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আপডেট দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর, আশুলিয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্থানীয় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। তারা স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সংঘাতের পূর্বাভাস ও প্রতিরোধে কাজ করবেন।
আজাদের স্বাস্থ্য অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও, শারীরিক ও মানসিক পুনরুদ্ধারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও সমর্থন প্রয়োজন হবে। পরিবার তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে এবং তদন্তের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।



