নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় ও সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় চার হাজার গণমাধ্যমকে ভোটের পাস ইস্যু করতে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি কমিশনের জনসংযোগ বিভাগ সোমবার, ২৬ জানুয়ারি জানিয়েছে। ভোটের পাসের মাধ্যমে মিডিয়া কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের প্রবেশ ও কভারেজ সহজে করতে পারবে।
কমিশন সরকার অনুমোদিত হাউসের সাংবাদিক ও তাদের সহায়ক কর্মীদের জন্য প্রেস কার্ড এবং গাড়ির স্টিকার প্রদান করবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, যার পরে পাস পাওয়া সম্ভব হবে না।
অনলাইন টেলিভিশন সেবার ক্ষেত্রে তালিকায় অঠারোটি পোর্টাল, দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে একশো উনিশটি সাইট, আঞ্চলিক অনলাইন মিডিয়া একষট্টি এবং সাধারণ অনলাইন নিউজ পোর্টাল দুইশত ত্রিশটি অন্তর্ভুক্ত।
প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে দৈনিক পত্রিকায় ১,৩৯৭টি, অর্ধসাপ্তাহিক তিনটি, সাপ্তাহিক ১,২৩১টি, পাক্ষিক ২১৫টি, মাসিক ৪৫১টি, দ্বিমাসিক নয়টি, ত্রৈমাসিক তেইশটি, চতুর্মাসিক একটি, ষান্মাসিক দুইটি এবং বার্ষিক দুইটি রয়েছে। এসবকে মিলিয়ে মোট ৩,৩৪৭টি প্রকাশনা তালিকাভুক্ত।
এই প্রকাশনাগুলোর মধ্যে ঢাকা ভিত্তিক ১,৪২২টি এবং রাজধানীর বাইরে ১,৯৩৫টি রয়েছে, ফলে সব মিলিয়ে ৩,৮১৮টি গণমাধ্যমকে ভোটের পাস প্রদান করা হবে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে জোর দিয়েছে যে পাসের বণ্টন ন্যায্য ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হওয়া দরকার। তারা নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ দলের মাধ্যমে প্রক্রিয়ার সঠিকতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে ভোটের পাসের ব্যাপক বণ্টন মিডিয়ার কভারেজ বাড়িয়ে ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পৌঁছানো সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বাড়লে ভোটার সচেতনতা ও অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কমিশনের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোটে প্রায় তিন হাজার আটশো অর্ধেক মিডিয়া সংস্থা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। এই বৃহৎ অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, ভোটের পাসের ব্যাপক বণ্টন মিডিয়া ও ভোটার উভয়ের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। কমিশন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনমতের আস্থা বাড়াতে চায়।



