23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাডাকসু সদস্য সর্বমিত্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোকজ নোটিশ

ডাকসু সদস্য সর্বমিত্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোকজ নোটিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে আসা প্রায় ত্রিশজন কিশোর ও তরুণের ওপর আক্রমণকারী ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে। ঘটনাটি সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর সাইফুদ্দিন আহমদ নিশ্চিত করেছেন।

সর্বমিত্র চাকমা উপস্থিত কিশোরদের কানে দৃঢ়ভাবে ধরিয়ে তাদের বসে থাকতে বাধ্য করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরক্তি সৃষ্টি করে। ঘটনাস্থলে প্রায় ত্রিশজনের অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যারা স্বাভাবিকভাবে মাঠে ব্যায়াম ও খেলাধুলা করছিলেন। এই ধরনের শারীরিক হস্তক্ষেপের ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।

ঘটনা জানার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সর্বমিত্রকে শোকজ নোটিশ জারি করেছে। নোটিশে তাকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে, যাতে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা যায়। নোটিশের মূল উদ্দেশ্য হল ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা।

প্রোফেসর সাইফুদ্দিন আহমদ, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তিনি নোটিশের বিষয়বস্তু ও সময়সীমা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শোকজ নোটিশের মাধ্যমে সর্বমিত্রের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে এবং তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শোকজ নোটিশের শর্ত অনুযায়ী সর্বমিত্রকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার কাজের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। এই ব্যাখ্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটি দ্বারা বিশ্লেষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক বা শাসনমূলক পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব, এবং কোনো ধরনের হিংসা বা শারীরিক জবরদস্তি সহ্য করা হবে না। শোকজ নোটিশের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা পাঠাতে চায় যে, ক্যাম্পাসে অনুপযুক্ত আচরণে কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

ডাকসু, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের অধিকার রক্ষার কাজ করে। তবে, সদস্যদের আচরণ যদি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করে, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসন নীতির বিরোধী বলে গণ্য হয়।

এ ধরনের ঘটনা পূর্বে ক্যাম্পাসে ঘটেছে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিতভাবে ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম তদারকি করে। প্রশাসন প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা যায়।

ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্ব নিতে বলা হয়, যাতে তারা কোনো অনুচিত আচরণ দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, ক্যাম্পাসে কোনো বিরোধ দেখা দিলে শান্তভাবে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগে অভিযোগ করা। এভাবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রেখে সমষ্টিগত শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব।

আপনার ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ থাকলে, তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর বা নিরাপত্তা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণই ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।

শোকজ নোটিশের ফলাফল এবং সর্বমিত্রের ব্যাখ্যা পর্যালোচনা শেষে, বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ শাসনমূলক পদক্ষেপ নেবে, যা ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনুচিত আচরণ না ঘটে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments