অজয় দেবগণ এবং সঞ্জয় দত্তের মুখোমুখি হওয়া নতুন জঙ্গল অ্যাডভেঞ্চার চলচ্চিত্র ‘রেঞ্জার’ নির্মাণের কাজ বর্তমানে প্রি‑প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে। জগন শক্তি পরিচালনায়, লাভ রঞ্জন ও অঙ্কুর গার্গ প্রযোজনা করছেন। ছবিতে অজয়কে বন রেঞ্জার, সঞ্জয়কে প্রধান খলনায়ক হিসেবে চিত্রায়িত করা হবে।
প্রি‑প্রোডাকশন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং শুটিংয়ের সূচনা গ্রীষ্ম ২০২৫-এ নির্ধারিত হয়েছে। চলচ্চিত্রের গল্প জঙ্গলের পটভূমিতে স্থাপিত, যেখানে দুই অভিজ্ঞ অভিনেতা উচ্চ‑ঝুঁকির টাকটকে মুখোমুখি হবেন। এই সময়সূচি অজয়ের অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত হয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, স্ক্রিপ্টে এমন এক খলনায়কের প্রয়োজন ছিল যার উপস্থিতি দৃঢ় ও প্রভাবশালী, ফলে সঞ্জয় দত্তকে এই ভূমিকায় নির্বাচন করা হয়েছে। তার চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে গাঢ় ও ভয়ঙ্কর চেহারা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি গল্পের তীব্রতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
অজয় ও সঞ্জয়ের জন্য জঙ্গলের পরিবেশে মানানসই বিশেষ পোশাক ও সাজসজ্জা তৈরি করা হবে, যা চরিত্রের স্বভাবকে আরও উজ্জ্বল করবে। কস্টিউম ডিজাইনাররা প্রকৃতির রঙ ও টেক্সচারকে বিবেচনা করে কাস্টম পোশাক তৈরি করছেন। ফলে স্ক্রিনে প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই দৃশ্যপট দেখা যাবে।
একজন সূত্রের মতে, পূর্বে দুজনই মিত্র বা হালকা হাস্যরসের চরিত্রে একসঙ্গে কাজ করেছেন, আর এই সরাসরি মুখোমুখি হওয়া ভক্তদের জন্য নতুন রোমাঞ্চের সুযোগ দেবে। দুজনের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলচ্চিত্রের আকর্ষণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধরনের মুখোমুখি প্রথমবারের মতো ঘটছে।
‘রেঞ্জার’কে বিশাল স্কেলে তৈরি করা হবে, আধুনিক ভিএফএক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত জঙ্গলের দৃশ্য ও বন্যপ্রাণীর চিত্রায়ণ করা হবে। জগন শক্তি শীর্ষস্থানীয় ভিএফএক্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করছেন, যাতে জঙ্গলের ঘনত্ব ও প্রাণীর চলাচল স্বাভাবিকভাবে ফুটে ওঠে। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের মানকে উচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী, ছবিতে শক্তিশালী সমর্থক কাস্ট থাকবে এবং সহায়ক চরিত্রের জন্য কাস্টিং প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ ensemble গড়ে তোলা হচ্ছে। এই কাস্টিং প্রক্রিয়া গল্পের বহুমাত্রিকতা বাড়াবে।
অজয় দেবগণ ‘ডি ডি প্যার ডি ২’ ও ‘ধামাল ৪’ শুটিং শেষ করার পর ‘রেঞ্জার’ে কাজ শুরু করবেন, পাশাপাশি ‘রেইড ২’ নামের আরেকটি প্রকল্পের প্রত্যাশা রয়েছে। তার ব্যস্ত সময়সূচি সত্ত্বেও তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণে উন্মুক্ত। এই ধারাবাহিকতা তার ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অজয় ও সঞ্জয়ের পূর্বের সহযোগিতা বেশিরভাগই হালকা মেজাজের বা একই দলে কাজের ছিল, ফলে এই প্রথম সরাসরি বিরোধপূর্ণ মুখোমুখি হওয়া শিল্পের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করবে। দুই অভিনেতার অভিজ্ঞতা ও অভিনয়শৈলী এই টাকটকে নতুন মাত্রা যোগ করবে। দর্শকরা তাদের পারস্পরিক টানাপোড়েনের প্রত্যাশা করছেন।
ফিল্মের গল্প জঙ্গলের গভীরতা ও অপ্রত্যাশিত বিপদের মাধ্যমে দুই অভিজ্ঞ অভিনেতার কর্মদক্ষতা ও অ্যাকশন দক্ষতা পরীক্ষা করবে। রেঞ্জার হিসেবে অজয়ের চরিত্রে বেঁচে থাকার কৌশল ও সঞ্জয়ের খলনায়ক চরিত্রে কৌশলগত চালচলন উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই দ্বন্দ্বের মাধ্যমে গল্পের নাটকীয়তা বাড়বে।
প্রযোজক দল চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক গুণমান নিশ্চিত করতে উচ্চমানের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ টিমকে যুক্ত করেছে, যা দর্শকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। ভিএফএক্সের পাশাপাশি সাউন্ড ডিজাইন ও এডিটিংয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে চলচ্চিত্রটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে সমসাময়িক মানদণ্ডে পৌঁছাবে।
‘রেঞ্জার’ শীঘ্রই প্রকাশের প্রস্তুতিতে থাকবে এবং উভয় নায়কের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। ছবির মুক্তির তারিখ ও অতিরিক্ত তথ্যের জন্য ভবিষ্যতে আপডেট প্রদান করা হবে। বলিউড হাঙ্গামা এই প্রকল্পের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করবে।



