23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিটেক কর্মীরা আইসিইকে শহর থেকে সরাতে সিইওদের হোয়াইট হাউসের কাছে আবেদন

টেক কর্মীরা আইসিইকে শহর থেকে সরাতে সিইওদের হোয়াইট হাউসের কাছে আবেদন

মিনিয়াপোলিসে আইসিই (ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এর তীব্র কার্যক্রমের পর, গুগল, মেটা, ওপেনএআই, আমাজন এবং সেলসফোর্সের মতো বড় টেক কোম্পানির ৪৫০-এর বেশি কর্মী একটি চিঠি স্বাক্ষর করে সিইওদের হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে আইসিইকে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো থেকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে। চিঠিটি “IceOut.Tech” নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল এজেন্টদের শহরে পাঠিয়ে নাগরিক, প্রতিবেশী ও কর্মীদের ওপর অপরাধমূলক দমন চালিয়ে যাচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মিনিয়াপোলিস থেকে লস এঞ্জেলেস, শিকাগো পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে সশস্ত্র ও মুখোশধারী এজেন্টদের উপস্থিতি সহিংসতা, অপহরণ এবং ভয় দেখানোর দিকে নিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি টেক শিল্পের কর্মীদের মতে আর সহ্য করা যায় না এবং তারা বিশ্বাস করে যে, শিল্পের নেতৃত্বের সমর্থন নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে।

মিনিয়াপোলিসে আইসিইর কার্যক্রমকে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক দখল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে; এজেন্টরা প্রতিবাদকারীদের ওপর মরিচ গ্যাস, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট এবং সাউন্ড ক্যাননসহ বিভিন্ন জননিয়ন্ত্রণের উপকরণ ব্যবহার করেছে। এই ধরনের কৌশলকে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘর্ষের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিন সপ্তাহ আগে আইসিই এজেন্টের গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রেনি গুডের মৃত্যু ঘটায় ব্যাপক প্রতিবাদ জাগে। এরপর, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে, সীমানা গার্ডের এজেন্টের গুলিতে মিনিয়াপোলিস ভিএ হাসপাতালের ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স আলেক্স প্রেট্টি নিহত হন, যা কর্মীদের মধ্যে ক্রোধ বাড়িয়ে দেয়। এই দু’টি ঘটনার পর চিঠির স্বাক্ষর সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।

চিঠির সংগঠকরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করে, স্বাক্ষরকারীদের অধিকাংশই গোপনীয়তা বজায় রাখতে চায়, কারণ তারা চাকরি বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষতির ভয় পোষণ করে। এই গোপনীয়তা টেক শিল্পের অভ্যন্তরে বিদ্যমান ভয়কে তুলে ধরে, যেখানে কর্মীরা প্রায়ই উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে চায়।

কিছু টেক নেতার ইতিমধ্যে আইসিইয়ের কার্যক্রমের বিরোধিতা প্রকাশ করেছে। লিঙ্কডইন সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান আইসিইয়ের কাজকে “জনগণের জন্য ক্ষতিকর” বলে উল্লেখ করেছেন, আর ভিনোদ খোসলা, খোসলা ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা, বর্তমান প্রয়োগকে “অত্যন্ত কঠোর” বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের মন্তব্য চিঠির মূল দাবিকে সমর্থনকারী প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

অতীতের একটি উদাহরণে, অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের সান ফ্রান্সিসকোতে ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর হুমকির পর টেক শিল্পের নেতারা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে, ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হয়। কর্মীরা এই সফলতা উল্লেখ করে বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের চাপ প্রয়োগের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

টেক কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, সিইওদের হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং আইসিইকে শহর থেকে সরানোর জন্য সরকারি নির্দেশনা চাওয়া ন্যায়সঙ্গত এবং জরুরি। যদি এই চিঠি সিইওদের দ্বারা সমর্থিত হয়, তবে ফেডারেল এজেন্টদের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে এবং শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বাড়তে পারে।

আইসিই পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের কাজ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ এবং ফেডারেল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। তবে কর্মীরা যুক্তি দেন যে, বর্তমান পদ্ধতি নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।

অগ্রসর হওয়া রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, এই উদ্যোগটি টেক শিল্পের সামাজিক দায়িত্বের নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্পের কর্মীদের জন্যও অনুরূপ পদক্ষেপের মডেল হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া এবং সিইওদের সমর্থন কেমন হবে, তা পরবর্তী সপ্তাহে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments