দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য একটি কৌশলগত হাব নির্ধারণের পর, সরকার শাখা কার্যালয় গঠনের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত হয় এবং দেশের দুগ্ধ শিল্পের কাঠামোকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্য রাখে।
দুগ্ধ শিল্প দেশের কৃষি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে গৃহস্থালী ব্যবহার থেকে শুরু করে শিল্পিক প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত চাহিদা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে উচ্চ মানের দুগ্ধ পণ্যের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত হাবের অধীনে একাধিক শাখা অফিস গড়ে তোলা হবে, যা উৎপাদন, সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিতরণ সব ধাপকে একত্রে সমন্বয় করবে। শাখা অফিসগুলোকে হাবের নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চলগুলোতে স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় দুধ সরবরাহকারীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যায়।
হাবের প্রধান কাজ হবে দুধের গুণমান নিশ্চিত করা এবং সংগ্রহের সময় ক্ষতি কমিয়ে বাজারে তাজা পণ্য পৌঁছানো। এর জন্য আধুনিক শীতল সংরক্ষণ সুবিধা এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
কৃষকরা এই উদ্যোগ থেকে সরাসরি উপকৃত হবে, কারণ শাখা অফিসের মাধ্যমে তারা ন্যায্য মূল্য পাবে এবং দুধের গুণগত মান উন্নত করার জন্য প্রশিক্ষণ পাবে। ফলে উৎপাদন বাড়বে এবং আয় স্থিতিশীল হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য হাবের প্রতিষ্ঠা সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা বাড়াবে। প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটগুলোকে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ মানের কাঁচামাল সরবরাহ করা সম্ভব হবে, ফলে পণ্যের গুণমান ও পরিমাণে উন্নতি ঘটবে। এটি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামের গঠনেও সহায়তা করবে।
সরবরাহ শৃঙ্খলের উন্নতি লজিস্টিক্স খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। শাখা অফিসগুলোতে আধুনিক রেফ্রিজারেশন ট্রাক এবং দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, যা দুধের তাজা অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় কমাবে। এই ব্যবস্থা পণ্যের শেল্ফ লাইফ বাড়িয়ে ভোক্তাদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করবে।
বিনিয়োগের দিক থেকে সরকার বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে হাবের অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এতে জমি, বিদ্যুৎ, পানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।
দুগ্ধ পণ্যের গুণমান ও সরবরাহের স্থিতিশীলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানি সম্ভাবনাও প্রসারিত হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মানের দই, পনির এবং পাউডার দুধের চাহিদা বাড়ছে, এবং হাবের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে দেশীয় রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে।
তবে হাবের কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। শীতল সংরক্ষণ সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাটের অবকাঠামো উন্নত করা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী 확보 করা জরুরি। এসব বিষয় সমাধান না হলে হাবের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার নীতি স্তরে সমর্থন বাড়াচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়, গ্রামীণ রোড উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ হাবের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
দীর্ঘমেয়াদে হাবের সাফল্য দেশের দুগ্ধ শিল্পকে আধুনিকায়ন করবে এবং গ্রামীণ আয়ের উৎসকে শক্তিশালী করবে। শাখা অফিসের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলে দুধের সংগ্রহের সময় ক্ষতি কমে যাবে, যা মোট উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দূর করবে।
সংক্ষেপে, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের হাব চিহ্নিত করে শাখা অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত দেশের দুগ্ধ শিল্পের কাঠামোকে পুনর্গঠন করবে, কৃষকদের আয় বাড়াবে, শিল্পের গুণমান উন্নত করবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াবে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের দুগ্ধ বাজারে স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।



