ডুডক তদন্তের অধীনে থাকা প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে জড়িত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর পুত্র সৈয়দ সোহানুর রহমানকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। রিমান্ডের সময় সোহানুরকে প্রিজন ভ্যানে করে গৃহবন্দি করা হয়, এবং গাড়ির ভ্যানের উপরের গ্রিলের ফাঁকা দিয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
সোহানুর রিমান্ডের সময় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, তার বাবা তাকে ৩৫ লাখ টাকার সম্পত্তি, একটি গাড়ি এবং একটি জায়গা উপহার দিয়েছেন; যার মধ্যে ৮ লাখ টাকার জায়গা ও ২৫ লাখ টাকার গাড়ি অন্তর্ভুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বাবা আমাকে জায়গা দিয়েছে, এ জন্য আমি জেল খাটব না” এবং জিজ্ঞাসা করেন, কেন তিনি মামলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সোহানুরের মতে, তার বাবার রিমান্ড চলমান থাকায় তিনি দেখা করতে গিয়ে ধরা পড়ে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমার বাবা যদি কোনো অপরাধ করে, তার বিচার হবে, আমার নয়” এবং দাবি করেন যে তার কোনো অপরাধমূলক দায়িত্ব নেই।
সকাল ১০ টায় সোহানুরকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়, পরে বেলা ১১ টার দিকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে আনা হয়। আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর এসব সরিয়ে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। দুদকের পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়, তবে সোহানুরের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের জন্য জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
সোহানুরের আইনজীবী তাওহিদুল ইসলাম রায় দেন, এই মামলায় আবেদ আলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আবেদ আলীর ট্যাক্স ফাইলে মোট ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ দেখানো আছে, আর তার পুত্রের সম্পদ ৪৭ লাখ টাকা। উভয় সম্পদের ওপরই যথাযথ কর প্রদান করা হয়েছে এবং আয়কর কর্মকর্তারা সার্টিফিকেট জারি করেছেন।
আইনজীবী তাওহিদুলের মতে, এখন আবেদ আলীর ওপর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হচ্ছে, তবে সোহানুরের কোনো সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “সোহানুরের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই, তাই তার বিরুদ্ধে মামলায় যুক্ত হওয়া অনুচিত”।
অন্যদিকে ডুডকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী দাবি করেন, আবেদ আলী ভুয়া কোম্পানি গঠন করে তার সন্তানদের নামে সম্পদ জমা করেছেন। তিনি বলেন, “এটি সম্পদের অবৈধ স্থানান্তর এবং কর ফাঁকি সংক্রান্ত বিষয়, যা তদন্তের আওতায় রয়েছে”।
মীর আহমেদ আলী আরও উল্লেখ করেন, ডুডক তদন্তের অধীনে থাকা এই মামলায় প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
আদালতের রায় অনুসারে, রিমান্ডের সময় সোহানুরকে প্রিজন ভ্যানে করে গৃহবন্দি করা হবে এবং রিমান্ডের শর্তাবলী মেনে চলতে হবে। রিমান্ডের সময় তিনি কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডুডক তদন্তের প্রধান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে জড়িত সকল ব্যক্তির সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তারা জানান, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই মামলায় জড়িত সকল পক্ষের আইনজীবী আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেছেন এবং রিমান্ডের সময়সীমা নির্ধারণের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেছেন। আদালত রিমান্ডের শর্তাবলী মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ তদারকি করবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, রিমান্ডের পর সোহানুরকে পুনরায় আদালতে হাজির হতে হবে এবং ডুডক তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট প্রদান করা হবে। মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।



