আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬-এ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আগারগাঁও সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে শুল্ক ও বাণিজ্য সহজীকরণে মৌলিক সংস্কার না করা হলে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা হ্রাস পাবে বলে এক অর্থনীতিবিদ সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
নীতিনির্ধারণ গবেষণা ইনস্টিটিউট (পিআরআইবি) এর চেয়ারম্যান জয়দি সাত্তার উল্লেখ করেন, গত ১৫‑১৬ বছর ধরে বাণিজ্য নীতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার করা হয়নি, ফলে এখন পর্যন্ত জমা থাকা সংস্কার কাজের পরিমাণ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্ক ব্যবস্থা অত্যন্ত উচ্চ এবং জটিল, যা কাস্টমস প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করে, ব্যবসায়িক খরচ বাড়ায় এবং বৈশ্বিক মান শৃঙ্খলে দেশের অবস্থান দুর্বল করে।
এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে শুল্ক যুক্তিকরণ, শুল্ক আধুনিকীকরণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণে ব্যাপক সংস্কার জরুরি, না হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি বহু প্রতিযোগিতামূলক দেশের পিছনে পড়বে, জয়দি সাত্তার জোর দিয়ে বলেন।
তবে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আধুনিক কাস্টমস প্রশাসনে রূপান্তরিত হতে পারে, যেখানে রাজস্ব সংগ্রহের চেয়ে বাণিজ্য সহজীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বর্তমানে বাণিজ্যিক কর মোট জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশ গঠন করে, এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হারকে সর্বোচ্চ ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা লক্ষ্য, যা আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থার মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণকে ত্বরান্বিত করবে।
ইভেন্টে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং বাণিজ্য বাধা দূরীকরণে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিনিধিদের সফরে কাস্টমস প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বহু উদ্বেগ উত্থাপিত হয়েছে, যা সমাধান না হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করবে।
মাহবুবুর রহমানের মতে, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী উচ্চ শুল্ক হ্রাসের দাবি নয়, বরং বৈধ প্রযুক্তিগত বাধা ও অপ্রয়োজনীয় নিয়মাবলীর সমাধান চায়।
এই মন্তব্যগুলো দেশের বাণিজ্য অবকাঠামোকে আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, বিশেষ করে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল সেক্টরে দক্ষ কাস্টমস পরিষেবা না থাকলে বাজার শেয়ার হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, শুল্ক ও বাণিজ্য নীতিতে দিকনির্দেশমূলক সংস্কার না হলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব হ্রাস পাবে, যা রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান উভয়ই প্রভাবিত করবে।
সরকার ইতিমধ্যে কাস্টমস আইটি সিস্টেম আধুনিকায়ন, ঝুঁকি-ভিত্তিক পরিদর্শন প্রয়োগ এবং স্বয়ংক্রিয় ডেটা এক্সচেঞ্জের পরিকল্পনা জানিয়েছে, তবে বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনও স্পষ্ট নয়।
যদি এই সংস্কারগুলো সময়মতো কার্যকর হয়, তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ বাড়বে, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের সংহতি শক্তিশালী হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
অবশ্যই, সময়সীমা সীমিত; পরবর্তী পাঁচ বছরই বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।



