আইসিসি কর্তৃক আয়োজন করা ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণের তালিকায় হঠাৎ পরিবর্তন ঘটেছে। স্কটল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টে স্থান প্রদান করা হয়েছে, যেখানে পূর্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অংশগ্রহণের জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে হবে এবং সব ম্যাচ কলকাতা শহরে অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রত্যাহার মূলত ভারতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশের উদ্বেগের কারণে করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতীয় মাটিতে বিশ্বকাপের নিরাপদ আয়োজন নিশ্চিত না হওয়ায় দলটি টুর্নামেন্ট থেকে সরে গেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসি দ্রুত বিকল্প দল খুঁজতে বাধ্য হয়।
স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড এই সুযোগকে “অনন্য” এবং “কিছুটা বিব্রতকর” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিটি জাতীয় দলই বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রস্থান তাকে ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত করেছে।
লিন্ডব্লেডের মতে, স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জন্য এই সুযোগটি এক ধরণের দায়িত্বের বোধ তৈরি করেছে। তিনি নাজমুল হোসেন শান্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অবসান তার হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। স্কটিশ সংস্থা এখন এই অনন্য সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করতে চায়।
আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সমন্বয় শেষে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় সংস্থাই উল্লেখ করেছে যে, টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সকল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রধান অগ্রাধিকার। স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক মান বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির সময় এখন মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্কটল্যান্ডের বোর্ড ও কোচিং স্টাফ ২৪ ঘণ্টা কাজ করে দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত। লিন্ডব্লেড জানান, স্কটল্যান্ডের কর্মী সংখ্যা প্রায় ত্রিশজন, যা সীমিত সম্পদে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়।
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদী স্কটল্যান্ডের পারফরম্যান্স হেড স্টিভ স্নেল বলেন, দলটি অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই মাঠে নামবে। তিনি যোগ করেন, দীর্ঘ শীতকালীন বিরতির পর বিশ্ব মঞ্চে ফিরে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, এবং খেলোয়াড়রা এই সুযোগকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।
কোলকাতার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ হবে পশ্চিম ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, এরপর ইটালি এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এই তিনটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে মোকাবিলা স্কটল্যান্ডের টিমকে টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়াবে। প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল টিমের র্যাঙ্কিংয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
স্কটল্যান্ডের জন্য এই অপ্রত্যাশিত সুযোগটি নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা উভয়ই নিয়ে এসেছে। দলটি এখনো প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে থাকলেও, খেলোয়াড়দের মনোবল উচ্চ এবং তারা টুর্নামেন্টে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশ্বকাপের সূচনা থেকে শেষ পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের পারফরম্যান্স কিভাবে গড়ে উঠবে, তা সময়ই বলবে।



