২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নরসিংদী জেলার ড্রিম হলিডে পার্কের সামনে একটি গাড়ি পার্কের পর সন্ত্রাসী গোষ্ঠী টাকা দাবি করে। দাবি প্রত্যাখ্যানের পর সংঘর্ষে ছয়জন সাংবাদিককে মারাত্মক আঘাত হয়।
বিকেলবেলায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিক্রা) এর ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠান শেষ করে গাড়িতে ঢাকা ফেরার পথে সাংবাদিকরা স্থানীয় কিছু লোকের টাকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয় এবং দ্রুতই শারীরিক দাঙ্গা রূপ নেয়।
দাঙ্গার মাঝখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং সরাসরি সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ চালায়। কিছু সময়ে তারা গাড়ির ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর আগুন লাগিয়ে মারার হুমকি দেয়।
হামলায় ছয়জন সাংবাদিক গুরুতরভাবে আহত হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শিরা ভাঙা, গলা ও কাঁধে আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীরা এই সময়ে রড, দেশীয় অস্ত্র এবং লাঠি ব্যবহার করে আক্রমণ বাড়িয়ে দেয়।
আক্রমণের সময় সাদা পাঞ্জাবি পরা এক সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের প্রতি গালি-গালাজ করে এবং গুলি করার হুমকি দেয়। তার আচরণকে ‘অকথ্য’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিক্রা কার্যকরী কমিটির সদস্য গোলাম আজম জানান, ক্রাইম রিপোর্টার্সের বার্ষিক পিকনিকের গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করার পর স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ চালায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই হামলা সাংবাদিকদের স্বাভাবিক কাজের স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করেছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপারইনস্পেক্টর মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক স্ট্রিমের মতে, ঘটনায় জড়িত দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসা নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রদান করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক সেবা প্রয়োজন হতে পারে।
বিক্রা কার্যনির্বাহী কমিটি এই ঘটনার জন্য মাধবদী থানা-তে আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে। তারা স্থানীয় আদালতে মামলার নথি দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কঠোর শাস্তি চায়।
অধিক তদন্তের জন্য নরসিংদী পুলিশ বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী স্থানীয় ব্যবসায়িক চাঁদাবাজি নিয়ে কাজ করছিল এবং সাংবাদিকদের প্রতিবাদকে হুমকি হিসেবে ব্যবহার করেছিল।
বিক্রা সদস্যরা উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এমন হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগের কঠোরতা বাড়ানো হবে।
সামগ্রিকভাবে, নরসিংদীর এই হামলা সাংবাদিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত হানেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা ঘটনার দায়িত্বশীলদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



