27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণে শান্তি ও অর্থনৈতিক শক্তি জোর...

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণে শান্তি ও অর্থনৈতিক শক্তি জোর দেন

রিপাবলিক দিবসের পূর্বসন্ধ্যায় ২৫ জানুয়ারি রবিবার, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতির সমাবেশে একটি ভাষণ দিয়ে জানালেন যে, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের মাঝেও ভারত শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

ভাষণে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস এবং গণতান্ত্রিক শাসনের মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের আলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।

মুর্মু বললেন, শান্তির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরে প্রোথিত। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের ঐতিহ্যে সমগ্র বিশ্বের শান্তির জন্য প্রার্থনা করার রীতি রয়েছে। সমগ্র পৃথিবীতে শান্তি না থাকলে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকতে পারে না।” বর্তমান সময়ে বহু অঞ্চলে সংঘাত চললেও ভারত শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে, এ কথাই তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযানের সাফল্য উল্লেখ করেন। গত বছর সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলা চালিয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যার ফলে একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস এবং বহু সন্ত্রাসী নিহত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা নীতি এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মুর্মু জানান, তিনি সিয়াচেন বেস ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, সুখোই ও রাফাল যুদ্ধবিমানে উড়ে গেছেন এবং সাবমেরিন আইএনএস ভাগশীরেও সফর করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং এই সামরিক শক্তি ভারতের শান্তির বার্তা আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।

শান্তির বার্তা কেবল নৈতিক অবস্থান থেকে নয়, বরং অর্থনৈতিক শক্তি থেকে উদ্ভূত, এ কথাও মুর্মু উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারত বর্তমানে দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি এবং অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচারে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

মুর্মু ভাষণে নারী ক্ষমতায়নের গুরুত্বেও আলোকপাত করেন। তিনি বললেন, নারীর সমান অংশগ্রহণ সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি এবং সরকার এই দিকটি নিশ্চিত করতে নানা নীতি গ্রহণ করেছে। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য চালু করা বিভিন্ন কর্মসূচি ও সামাজিক কল্যাণ পরিকল্পনাও তিনি উল্লেখ করেন, যা দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক।

সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের বিষয়েও তিনি জোর দেন। ভারতীয় ঐতিহ্য, শিল্প, ভাষা ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ ও প্রচার করা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পরিচয় গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, মুর্মু উল্লেখ করেন। তিনি সংবিধানিক গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখে।

সামগ্রিকভাবে, রাষ্ট্রপতি মুর্মু ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে জাতিকে একটি সমন্বিত বার্তা দিয়ে শেষ করেন: শান্তি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক গর্বের সমন্বয়ে গড়ে তোলা ভবিষ্যৎই ভারতের প্রকৃত শক্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নীতিগুলো দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সক্ষম করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments