28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীরের ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠা’ মন্তব্য শেরপুরে

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীরের ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠা’ মন্তব্য শেরপুরে

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মাঠে ২৬ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যাকে চরমোনাই পীর নামেও চেনা যায়, দেশের ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠা’ নামে চলমান নীতি-নির্ধারণকে ধোঁকাবাজি বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে গৃহীত নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মডেল অনুসরণে গড়ে উঠছে এবং এভাবে প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

চরমোনাই পীরের মতে, ইসলামী নীতির ভিত্তিতে ন্যায়বিচার ছাড়া দেশের শান্তি ও সুবিচার গড়ে তোলা যায় না। তিনি যুক্তি দেন, বিদেশি মডেলকে নকল করে গৃহীত নীতিগুলো বাংলাদেশে সত্যিকারের ইনসাফের স্বপ্নকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তার বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন, যখন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইসলামিক আদর্শের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো গড়ে উঠেছিল। “সেই সময়ের ইসলামিক পরিবেশকে আমি একটি ‘বাক্স’ হিসেবে দেখেছি, কিন্তু এখন তা ছিনতাই হয়ে গেছে,” তিনি বলেন।

পীর আরও উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ন্যায় ও ইসলামিক আদর্শের প্রতি ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রত্যাশা ভেঙে পড়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের আশাকে ব্যবহার করে ভিন্ন পথে চালনা করছে। তিনি বলেন, “যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা একত্রিত হয়েছিলাম, তা আর অবশিষ্ট নেই,” এবং বর্তমান নীতি-নির্ধারণকে সেই মূল উদ্দেশ্যের পরিত্যাগ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

চরমোনাই পীরের মন্তব্যের পেছনে তিনি যে যুক্তি তুলে ধরছেন, তা হল দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মডেল থেকে বিচ্যুত করে, স্বদেশীয় ইসলামিক নীতি-প্রণয়নে ভিত্তিক করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসলামভিত্তিক ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়,” এবং এ ধরনের ন্যায়বিচারই দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

শেরপুরে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা চরমোনাই পীরের বক্তব্যে সাড়া দিয়ে তালি ও নাড়া তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নীতি-নির্ধারণে বিদেশি মডেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের স্বতন্ত্র আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, এই ধরণের নীতি-অনুসরণ দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চরমোনাই পীরের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের এই ধরনের মন্তব্য ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যদি ইসলামিক ন্যায়বিচারের দাবি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠীর সমর্থন পায়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন দিক যোগ করতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের দাবি বাস্তবায়নের জন্য আইনগত ও সাংবিধানিক কাঠামোর পুনর্গঠন প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, চরমোনাই পীরের শেরপুরে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বর্তমান নীতি-নির্ধারণকে যুক্তরাষ্ট্রের মডেল অনুসরণে ধোঁকাবাজি বলে সমালোচনা করেছেন এবং ইসলামিক ন্যায়বিচারকে দেশের শান্তি ও সুবিচারের মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ন্যায়বিচার সংক্রান্ত আলোচনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments