বিসিবি কর্তৃক বিপিএল সমাপ্তির পর আয়োজন করা দুই দিনের ম্যাচ রেফারি কর্মশালায় আইসিসির প্রাক্তন এলিট আম্পায়ার সাইমন টাফেল আন্তর্জাতিক মানের আম্পায়ার গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে আম্পায়ারিং মান উন্নয়নের জন্য বর্তমান উদ্যোগগুলোকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক স্তরের রেফারি তৈরি করা প্রধান উদ্দেশ্য।
কর্মশালাটি বিসিবির সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে দেশীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ ছিল। দুই দিনব্যাপী সেশনগুলোতে ম্যাচ রেফারিদের জন্য মূল্যায়ন পদ্ধতি, মাঠে দায়িত্ববণ্টন, খেলোয়াড় ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিসংখ্যান সংগ্রহের পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। টাফেল বলেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ রেফারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাইমন টাফেল স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আরও আন্তর্জাতিক মানের আম্পায়ার তৈরি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি জোর দেন, দেশের ক্রিকেটে উচ্চ মানের রেফারির উপস্থিতি না শুধুমাত্র ম্যাচের গুণগত মান উন্নত করবে, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিসিবি এবং আইসিসি একসাথে কাজ করছে, যা টাফেলকে আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে।
টাফেল সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি ও বিপিএলের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ম্যাচ পরিচালনায় বিনিয়োগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিপিএলের অংশ হতে পারা এবং সেখানে ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য আনন্দের অভিজ্ঞতা ছিল। এই অভিজ্ঞতা রেফারিদের বাস্তব মাঠের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করে এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ভিত্তি গড়ে তোলে।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) থেকে আম্পায়ার কোচ ডেনিস বার্নসকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটিকেও টাফেল ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। ডেনিস বার্নসের উপস্থিতি রেফারিদের আধুনিক কোচিং পদ্ধতি ও মূল্যায়ন মানদণ্ডে পরিচিত করাবে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতা করার জন্য অপরিহার্য। টাফেল বলেন, বিদেশি কোচের সঙ্গে কাজ করা রেফারিদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করে এবং তাদের পেশাদারিত্বে নতুন মাত্রা যোগ করে।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল আম্পায়ার মূল্যায়ন পদ্ধতি উন্নত করা এবং রেফারিদের কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা। সেশনের অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব, ম্যাচ ও খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও সঠিকতা, পাশাপাশি পরিসংখ্যান সংগ্রহের সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। টাফেল উল্লেখ করেন, এসব বিষয় রেফারিদের দক্ষতা যাচাই ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সাইমন টাফেল বাংলাদেশের আম্পায়ারিং কাঠামোর বর্তমান অগ্রগতিকে প্রশংসা করে বলেন, “এখন পর্যন্ত করা কাজগুলো আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বিসিবি আরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক কোচের সঙ্গে সহযোগিতা এবং নিয়মিত মূল্যায়ন সিস্টেমের মাধ্যমে রেফারিদের মানোন্নয়ন চালিয়ে যাবে। টাফেল যোগ করেন, এই ধারাবাহিকতা রেফারিদের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়াবে এবং দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক গুণগত মানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কর্মশালার সমাপ্তি পর টাফেল এবং বিসিবি কর্মকর্তারা পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, আগামী মাসে আরও একাধিক রেফারি প্রশিক্ষণ সেশন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মূল্যায়ন মডেল প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি রেফারিদের আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তৈরি হবে।



