বাংলাদেশের ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজ মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সকল হজ সংস্থাকে জানিয়েছে যে, মক্কা ও মদিনায় বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের জন্য বাসস্থানের চুক্তি জানুয়ারি ২৮ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই নির্দেশনা হজ মৌসুমের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে এবং সময়সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ হজ পরিচালনায় বাধা আসতে পারে।
মন্ত্রণালয় ২৪ জানুয়ারি সমস্ত হজ সংস্থার কাছে চিঠি প্রেরণ করে এই সময়সীমা স্মরণ করিয়ে দেয়। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, হজ যাত্রীদের বাসস্থান নিশ্চিত করা হজের মৌলিক শর্ত এবং তা না হলে হজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই বছর বাংলাদেশি হজ যাত্রীরা সরকারী ও বেসরকারি দুই ধরণের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অধীনে হজ সম্পন্ন করবে। সরকারী পদ্ধতিতে সব যাত্রীর বাসস্থান ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে, ফলে সরকারী সংস্থাগুলোকে আর কোনো বাড়ি সংক্রান্ত কাজ করতে হবে না।
বেসরকারি পদ্ধতিতে মোট ৭৩,৯৩৫ যাত্রী ৩০টি প্রধান সংস্থার মাধ্যমে হজে অংশ নেবে। এ সংস্থাগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি এখনও বাসস্থানের চুক্তি সম্পন্ন করেনি, যা হজের সময়সূচি ও লজিস্টিক্সে ঝুঁকি তৈরি করছে।
সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়টি নিয়ে বারবার হজ সংস্থাগুলোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসস্থানের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হোক। মন্ত্রণালয় এই অনুরোধকে বাধ্যতামূলক বলে বিবেচনা করছে এবং সময়মতো কাজ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে, সৌদি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হজ ও উমরাহ বিষয়ক বিভাগে বাংলাদেশের হজ সংস্থাগুলোর ধীরগতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, হজের মৌসুমের নিকটবর্তী সময়ে বাসস্থানের চুক্তি না থাকলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
বাংলাদেশের ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় প্রধান সংস্থাগুলোকে জানিয়েছে যে, জানুয়ারি ২৮ের মধ্যে সম্পূর্ণ বাসস্থান চুক্তি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক, এবং সমন্বয়কারী সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে। এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভবিষ্যৎ হজ পরিচালনার অনুমতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে হজ সংক্রান্ত সহযোগিতা ১৯৭০-এর দশক থেকে চলমান এবং উভয় পক্ষই হজ যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’দেশের মধ্যে হজ সংক্রান্ত চুক্তি ও সমঝোতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই বছরও অব্যাহত রয়েছে।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, হজের মতো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে লজিস্টিক্সের সঠিক সমন্বয় না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বলেন, জানুয়ারি ২৮ের সময়সীমা হজ সংস্থাগুলোর জন্য একটি কঠোর চ্যালেঞ্জ, তবে একই সঙ্গে এটি হজের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, হজ সংস্থাগুলোকে বাসস্থানের চুক্তি চূড়ান্ত করার পর হজ ভিসা প্রক্রিয়া, যাত্রীদের গাইডলাইন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। সৌদি মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে যে, বাসস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর হজের রুট, পরিবহন ও খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হবে, যাতে হজের সময় কোনো ধীরগতি না ঘটে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশি হজ যাত্রীদের জন্য বাসস্থান চুক্তি সম্পন্নের শেষ তারিখ জানুয়ারি ২৮ নির্ধারিত হয়েছে, এবং এই সময়সীমা মেনে না চললে ভবিষ্যৎ হজ পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা আরোপিত হতে পারে। উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ এই বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং হজের নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



