সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য গঠিত বই নির্বাচন কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়। কমিটি, যা ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে গৃহীত হয়েছিল, বেসরকারি গ্রন্থাগারে অনুদানের জন্য বই নির্বাচন করত। বাতিলের কারণ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ব্যাপক সমালোচনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক আফসানা বেগমের দায়িত্বকালে বই ক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উঠে এসেছে।
আফসানা বেগমের সঙ্গে সরকারের নিয়োগ চুক্তি বাতিলের পর, তার তত্ত্বাবধানে কেনা বইগুলোর তালিকা অনলাইনে প্রকাশিত হয় এবং তা নিয়ে নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়া এই তালিকা বইয়ের বিষয়বস্তু, মূল্য এবং ক্রয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপকে ত্বরান্বিত করে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রক্রিয়া বন্ধ করা হবে। কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে সমর্থন প্রদান করা, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয় বই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নতুন নীতি প্রণয়নের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। যদিও নতুন কোনো কমিটি গঠনের ঘোষণা না দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে অনুদান প্রক্রিয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অধিকাংশ বিশ্লেষক এই সিদ্ধান্তকে সরকারের স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, জনসাধারণের চাপের ফলে নীতি সংশোধন করা স্বাভাবিক এবং এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হতে পারে।
বাতিলের পর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বর্তমান পরিচালকের দায়িত্বে থাকা দলও বই ক্রয় সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে বলে জানা যায়। এই পর্যালোচনা মূলত কেনা বইয়ের মান, প্রয়োজনীয়তা এবং বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রীভূত।
বই নির্বাচন কমিটির কাজের সময়কালে গৃহীত কিছু সিদ্ধান্তের পুনর্মূল্যায়নও করা হবে। বিশেষ করে, অনুদানপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারগুলোকে পূর্বে সরবরাহিত বইগুলোর ব্যবহারিকতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করতে বলা হবে।
বাতিলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত সমালোচনার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, জনমতকে উপেক্ষা করা কোনো নীতি গঠন প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত নয় এবং তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাতিলের ফলে বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে সরাসরি অনুদান পাওয়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থেমে যাবে। তবে মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা গ্রন্থাগারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে।
এই সিদ্ধান্তের পর, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী এখনও প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা দাবি করছে। তবে সকলেই একমত যে, বই ক্রয় সংক্রান্ত বিতর্কের সমাধান না হলে নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
মন্ত্রণালয় আগামী সপ্তাহে একটি কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন অনুদান নীতি গঠন করা হবে। এই কর্মশালার লক্ষ্য হবে সকল পক্ষের মতামত সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে দেশের সাংস্কৃতিক নীতি ও গ্রন্থসামগ্রীর গুণগত মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বই নির্বাচন ও বিতরণে আরও কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পাঠকদের জন্য উপকারী হবে।
বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল নথি সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করেছে। এই দলটি বই ক্রয় সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন, চুক্তি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করবে, যাতে কোনো অনিয়ম সনাক্ত করা যায়।
বাতিলের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, মন্ত্রণালয় সম্ভবত নতুন একটি স্বচ্ছতা নিশ্চিতকারী কাঠামো গড়ে তুলবে, যা বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে ন্যায়সঙ্গতভাবে সমর্থন করবে এবং একই সঙ্গে জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখবে।



