মঙ্গলবার, টোকিও উয়েনো চিড়িয়াখানা থেকে চীনকে দুইটি বিশাল পান্ডা শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই শেষবারের মতো দেখা শেষে ফেরত পাঠানো হয়। এই যমজ শাবকগুলোকে চীনের মূল ভূখণ্ডে পুনরায় যুক্ত করার কাজটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রবিবার, উয়েনো চিড়িয়াখানার প্রবেশদ্বারে হাজার হাজার দর্শনার্থী একত্রিত হয়ে পান্ডাদের বিদায়ের জন্য অপেক্ষা করে। ভিড়ের মধ্যে কান্নার স্রোত প্রবাহিত হয়, কারণ বহু পরিবার এই প্রাণীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আবেগময় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান সংক্রান্ত মন্তব্যের পর চীন ও জাপানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি তীব্রতর হয়েছে। তার বক্তব্যের পর চীন এই পান্ডা ফেরত নেওয়াকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির সূচক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
১৯৭২ সালে চীন ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে পান্ডা কূটনীতি উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে। প্রথমবার জাপান চীনের কাছে পান্ডা পাঠায়, যা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিনিময়ের ভিত্তি স্থাপন করে।
চীন ১৯৪৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে পান্ডা উপহার হিসেবে পাঠায়, যা বিশ্বব্যাপী ‘পান্ডা কূটনীতি’ নামে পরিচিত। তবে চীন সবসময় পান্ডার মালিকানা বজায় রাখে এবং ভাড়া নেওয়া দেশগুলোকে প্রতি জোড়া পান্ডার জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলার ফি ধার্য করে।
উয়েনো চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, পান্ডা জোড়াকে শেষবার দেখার জন্য নির্ধারিত ৪,৪০০টি স্লটের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ আবেদন করেছে। এই বিশাল চাহিদা দেখায় যে দর্শকরা কতটা গভীরভাবে এই প্রাণীদের সঙ্গে সংযুক্ত।
একজন দর্শনার্থী উল্লেখ করেন, তার সন্তান ছোটবেলা থেকেই এই চিড়িয়াখানায় আসা স্বপ্ন দেখত এবং পান্ডাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে জীবনের মূল্যবান স্মৃতি হিসেবে মনে রাখবে। এই ব্যক্তিগত অনুভূতি পুরো ভিড়ের আবেগময় পরিবেশকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
পান্ডা ভাড়ার মেয়াদ সাধারণত দশ বছর হলেও, অতীতের বেশ কিছু ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাইওয়ান সংক্রান্ত মন্তব্যের ফলে চীন নতুন পান্ডা সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে, যা জাপানের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বেইজিং সরকার তাইওয়ানকে তার মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও দ্বীপটিকে একীভূত করতে চায়। এই অবস্থান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীয়ের মন্তব্যের পরপরই চীন ও জাপানের মধ্যে বাকযুদ্ধ ও বৈরী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিয়াও শিয়াও ও লেই লেই চীনে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে ১৯৭২ সালের পর জাপান প্রথমবারের মতো পান্ডা-শূন্য হবে। এই পরিবর্তন কেবল প্রাণী সংরক্ষণ ক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



