সোমবার আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত সেমিনারে চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের কর সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, লাভ না হলেও কর দিতে হয় এবং নিয়মিত কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত করের চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষের কারণ।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। সকলেরই সম্মিলিতভাবে কাস্টমস প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহজীকরণে আলোচনা হয়।
সেমিনারের অন্যতম মূল ঘোষণা ছিল দেশের নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) সনদ প্রদান। এই সনদ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কাস্টমসের প্রক্রিয়ায় বিশেষ সুবিধা পাবে, যেমন দ্রুত ক্লিয়ারেন্স এবং কম ডকুমেন্টেশন প্রয়োজনীয়তা। একই সময়ে, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের সার্টিফিকেট অব মেরিট সম্মাননা ১৭ জন কর্মকর্তাকে প্রদান করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
চেয়ারম্যানের মতে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কাজটি অত্যন্ত কঠিন এবং এতে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সরকার ধারাবাহিকভাবে দাবি করে যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারছে না, যদিও ট্যারিফ রেট ইতিমধ্যে উচ্চ। ফলে, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের প্রধান অভিযোগ হল সেবা প্রদান প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও অস্বচ্ছতা, আর করের পরিমাণ নিয়ে নয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, পূর্বে কাস্টমসের সাফল্য মূলত রাজস্ব আহরণে মাপা হতো, তবে এখন বাণিজ্য সহজীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত নিম্নআয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ ও শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার প্রয়োজন।
মাহবুবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান বিমানবন্দরে যাত্রীদের সব ব্যাগেজ স্ক্যানিং করার পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো দেশেই ১০০% ব্যাগেজ স্ক্যানিং প্রয়োগ করা হয় না এবং এই প্রক্রিয়াটি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই সেমিনারটি কাস্টমস সেবার গুণগত মান উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিবেশের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে। চেয়ারম্যানের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, কর সংগ্রহের পাশাপাশি সেবা ডেলিভারির গতি ও দক্ষতা বাড়ানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে করের অতিরিক্ত চাপ কমে এবং সেবা মান উন্নত হলে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উজ্জ্বল হবে।
সেমিনারের সমাপ্তিতে সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে, কাস্টমস প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং বাণিজ্য সহজীকরণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে। এদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উচ্চ ট্যারিফ রেট এবং সেবা সংক্রান্ত অভিযোগের সমাধানে কী ধরনের নীতি পরিবর্তন আসবে, তা সময়ই বলবে।



