ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রা জান্নাতুল ফেরদৌস জুই ৭টি মেটা পেজের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি একই সঙ্গে একটি সহপাঠীর নাম উল্লেখ করে অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগও তুলে ধরেছেন। এই মামলাটি সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্সের ধারা ২৫, ২৬ ও ২৭ অনুযায়ী ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে।
মামলার দায়েরের সময় জুই জিডিসি (CID) এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালের নথিপত্রে তার বিবৃতি রেকর্ড করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজি মামলাটির শোনার কাজ সম্পন্ন করেন এবং সহকারী বেঞ্চ সহকারী মো. জুয়েল মিয়া নথি স্বাক্ষর করেন।
জুইয়ের আইনজীবী সায়েদ নাজরুল ইসলাম মামলাটি দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে অভিযোগকারী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বিচারক গাজি মামলাটির তদন্তের জন্য সিআইডি (Criminal Investigation Department) কে দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং ৫ই মার্চের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনা অনুসারে সিআইডি তদন্তের পরিকল্পনা তৈরি করবে।
অভিযোগের মূল বিষয় হল ২৩ ডিসেম্বরের রাতের সময় অভিযুক্ত পেজগুলো জুই এবং অন্য এক মহিলার সম্পর্কে মিথ্যা ও অশ্লীল মন্তব্য প্রকাশ করে ধর্মীয় ঘৃণা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই মন্তব্যগুলোকে অবমাননাকর, মিথ্যা এবং কুসংস্কারপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে অভিযুক্তরা একাধিক বট আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের কন্টেন্ট প্রকাশ করেছে। এই বট আইডিগুলো বিভিন্ন নামের অধীনে কাজ করায় মন্তব্যগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছায়।
অভিযুক্ত পেজগুলোর নাম হল: “Fight Against Hindutva (Backup)”, “Fight Against Hindutva – Official”, “FAH Exclusive”, “Osman Chy Chand”, “SB Billal Hasanat Anu”, “Reashad Farhan Hosen” এবং “Harul Haque”। এসব পেজকে একত্রে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্সের ধারা ২৫, ২৬ ও ২৭ অনুসারে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবমাননাকর, মিথ্যা ও অশ্লীল মন্তব্যের প্রকাশ নিষিদ্ধ। এই ধারাগুলো লঙ্ঘন করলে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া হয়।
জুই একজন জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল (Jatiyatabadi Chhatra Dal) এর নেতা এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়। তার এই আইনি পদক্ষেপটি অনলাইন হেনস্থার বিরুদ্ধে সতর্কতা জাগিয়ে তুলতে পারে।
সাইবার ট্রাইব্যুনাল এবং সিআইডি এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে স্পষ্টতা আসবে।
এই মামলাটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবমাননাকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে প্রভাব ফেলতে পারে।



