বাগেরহাট সদর উপজেলার ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামকে আজ উচ্চ আদালত অ্যান্টি‑টেরর মামলায় ছয় মাসের অস্থায়ী জামিন প্রদান করেছে। এই সিদ্ধান্তের আগে তিন দিন আগে তার স্ত্রী ও নয় মাসের পুত্রের মৃত্যু ঘটেছে, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জামিনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি গত বছর ৬ মার্চ বাগেরহাট থানা থেকে দায়ের করা হয়েছিল এবং আজ বিচারক জে.বি.এম. হাসান ও বিচারক আজিজ আহমেদ ভূইয়ান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের মাধ্যমে রায় দেওয়া হয়েছে। রায়ের পাশাপাশি আদালত রাষ্ট্রকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সাদ্দামকে স্থায়ী জামিন না দেওয়ার কারণ কী, তা ব্যাখ্যা করতে।
সাদ্দামের আইনজীবী মোহাম্মদ সায়েদ আহমেদ রেজা জানান, স্ত্রী ও শিশুর মৃত্যুর পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জামিন প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাদ্দাম বর্তমানে যশোর সেন্ট্রাল জেলে রয়েছে এবং জামিন পাওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তি পাবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।
রেজা উল্লেখ করেন, সাদ্দাম ইতিমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে অন্য ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছেন, তবে জামিন পাওয়ার পরপরই তিনি অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেফতার হয়েছেন। এই ধারাবাহিক গ্রেফতার তার মুক্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
আজকের রায়ে উল্লেখিত মামলায় সাদ্দামের নাম ফার্মার ইনফরমেশন রিপোর্টে (FIR) অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তিনি গত বছর ১৮ ডিসেম্বর একই মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই তথ্য আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে এবং রেজা তা নিশ্চিত করেছেন।
২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সাদ্দামকে যশোর সেন্ট্রাল জেলের গেটের সামনে তার মৃত স্ত্রী ও পুত্রের দেহ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়। পারোল না পেয়ে দেহগুলো একটি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে জেল গেট পর্যন্ত নিয়ে আসা হয় এবং পাঁচ মিনিটের সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি তাদের শেষ বিদায় নিতে পারেন।
২৩ জানুয়ারি বিকেলে পুলিশ সাদ্দামের বাড়ি, সবে কাঙ্ক্ষদাঙ্গা গ্রাম, বাগেরহাট সদর থেকে তার স্ত্রীর লটকানো দেহ উদ্ধার করে। ২২ বছর বয়সী কানিজ সুভর্ণা স্বর্ণালীকে লটকানো অবস্থায় পাওয়া যায়, আর তাদের নয় মাসের পুত্র নাজিম হোসেনের দেহ মেঝেতে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। নাজিম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিলেন।
কানিজ স্বর্ণালীর পিতা জাতীয় পার্টির নেতা ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য রুহুল আমিন হাওলাদার। তার পরিবারে এই ট্র্যাজেডি নিয়ে গভীর শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। দেহগুলো বাগেরহাটে পাঠিয়ে মৃতদেহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
আগস্ট ৫, ২০২৪ তারিখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাদ্দাম গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন এবং তখন থেকে তিনি জেলে আটক আছেন। তার গ্রেফতারের পর থেকে কোনো মুক্তি বা হ্রাসের সুযোগ পাওয়া যায়নি।
অধিকন্তু, আদালত আজ রাষ্ট্রকে নির্দেশ দিয়েছে যে, সাদ্দামকে স্থায়ী জামিন না দেওয়ার কারণ কী, তা লিখিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এই রুলের মাধ্যমে ভবিষ্যতে মামলার অগ্রগতি ও মুক্তির সম্ভাবনা নির্ধারিত হবে।
সারসংক্ষেপে, বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে অ্যান্টি‑টেরর মামলায় অস্থায়ী জামিন প্রদান করা হয়েছে, তবে স্থায়ী জামিনের জন্য রাষ্ট্রের ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত। তার বর্তমান অবস্থান যশোর সেন্ট্রাল জেলে রয়ে গেছে এবং ভবিষ্যৎ আদালতীয় রায়ের ওপর নির্ভরশীল।



