ঢাকা আদালতে সোমবার তপসা বিশ্বাস ও কিরণ মালার জামিনের আবেদন দাখিল করা হয়। দুজনই ধামরাই থানার এক মামলায় পুলিশ কাজের বাধা ও মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তপসা বিশ্বাসের সঙ্গে কিরণ মালার জামিনের আবেদন আইনজীবী মো. ইরশাদুল হক উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিচারক সাজ্জাদুর রহমানের নির্দেশে জামিন সংক্রান্ত শুনানির দিন বৃহস্পতিবার নির্ধারিত হয়েছে। আদালতে হক বলেন, দুজনই নারী এবং তপসার দেড় বছরের দুগ্ধপোষ্য শিশুর মা হওয়ায় তারা জামিনের যোগ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামিন প্রদান হলে তারা পালিয়ে যাবে না।
হক আদালতে প্রশ্নের জবাবে জানান, যদি তপসার জামিন না হয় তবে শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন, এবং রিমান্ডের পর পুনরায় জামিনের আবেদন করা হয়েছে।
মামলার মূল সূত্র গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার চুরির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বাবুলকে ধামরাই থানা এলাকার গ্রেপ্তারের সময় পুলিশকে আক্রমণ করা। ওই ঘটনার পর তপসা বিশ্বাস, কিরণ মালা, বাদল চন্দ্র সরকার ও দুলাল চন্দ্র সরকারকে পুলিশ বাধা ও মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার করে। ধামরাই থানার এসআই সুবোধ চন্দ্র বর্মন এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেন।
বর্ণিত ঘটনার সময়, শুক্রবার রাতে হরিলাল বিশ্বাসের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। সেখানে ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি লাঠি, রড এবং দেশীয় অস্ত্রসহ গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণের অভিযোগে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। আক্রমণে এসআই সুবোধ চন্দ্র বর্মন, তিনজন এএসআই এবং এক কনস্টেবল আহত হন। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দল এসে আক্রমণকারীদের উদ্ধার করে।
এই মামলায় তপসা বিশ্বাসের স্বামী হরিলাল বিশ্বাস ও তাদের ছেলে সৌরভ বিশ্বাসকেও আসামি করা হয়েছে। শিশুটিকে আদালতে উপস্থিত করতে তার খালা সরলা বিশ্বাস এসে শিশুর মায়ের জন্য কান্নাকাটি করেন, এবং দেড় বছরের শিশুকে মা ছাড়া রেখে যাওয়ার কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
বিচারক সাজ্জাদুর রহমানের নির্দেশে নির্ধারিত বৃহস্পতিবারের শুনানিতে জামিনের অনুমোদন বা অস্বীকৃতি চূড়ান্ত হবে। আদালত এখন পর্যন্ত কোনো রায় প্রকাশ করেনি, তবে উভয় পক্ষই তাদের যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে। মামলায় উল্লেখিত সকল অভিযোগ ও প্রমাণ-প্রসঙ্গ আইনগতভাবে বিবেচনা করা হবে।
এই মামলায় জড়িত সকল ব্যক্তি, বিশেষ করে তপসা বিশ্বাসের মতো মা ও শিশুর অধিকার, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আদালতের রায়ের পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত হবে, এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে রায়ের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।



