চট্টগ্রাম বন্দরের গমের চালান গ্রহণের অনুষ্ঠান চলাকালীন ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ধর্ম উপদেষ্টা জাতির উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে আইনের শাসনকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আইনগত কাঠামো ছাড়া কোনো সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব নয় এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এটি অপরিহার্য।
উক্ত বক্তব্যটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়া হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন এবং গমের চালানকে স্বাগত জানাতে সহায়তা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
ধর্ম উপদেষ্টা তার ভাষণে উল্লেখ করেন, “আইনের শাসন না থাকলে কোনো নীতি বাস্তবায়ন করা কঠিন, আর তা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।” তিনি আরও বলেন, আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং বিদেশি মূলধন প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল এই মন্তব্যকে আংশিকভাবে গ্রহণ করে, তবে তারা যুক্তি দেন যে আইনের শাসন একা যথেষ্ট নয়। তারা দাবি করেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতা নিশ্চিত করা ছাড়া সত্যিকারের উন্নয়ন অর্জন করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও অনুষ্ঠানে দেশের আইনি কাঠামোর গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বলেন, “একটি স্থিতিশীল আইনি পরিবেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য অপরিহার্য।” তিনি গমের চালানের সময়সূচি ও গুণগত মানের ওপর ইতিবাচক মন্তব্য করেন।
একই সময়ে সরকারকে জানানো হয় যে, বিশ্বকাপ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্রীড়া নীতি ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি প্রভাবিত হবে, যা রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করবে।
আইনের শাসনকে কেন্দ্র করে করা এই মন্তব্যটি আসন্ন নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যারা আইন সংস্কার ও শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের জন্য এটি ভোটারদের কাছে আস্থা বাড়ানোর সুযোগ।
সরকার ইতিমধ্যে আইন সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যার লক্ষ্য হল বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা। এই কমিটি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত বাধা দূর করার পরিকল্পনা তৈরি করছে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আইনের শাসনকে বাস্তবায়নে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করা জরুরি। তারা দাবি করেন, কোনো আইন যদি বৈষম্যমূলক হয় তবে তা দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুন্ন করবে।
পরবর্তী সপ্তাহে ধর্ম উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আইন সংস্কার সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবে। এই প্রস্তাবনাগুলো পার্লামেন্টে আলোচনার পর অনুমোদিত হলে, দেশের আইনি পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ধর্ম উপদেষ্টা আইনের শাসনকে জাতির উন্নয়নের অপরিহার্য স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা সরকারী নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আসন্ন ক্রীড়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংযুক্ত। এই দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং আইন সংস্কারের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে।



