২৬ জানুয়ারি সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন, যা বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি মার্কিন দূতাবাসের একটি বিবৃতিতে জানানো হয় এবং দেশের গম সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি তুলে ধরা হয়।
পরিদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান এবং খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের সমন্বয়ে গমের বড় চালান গ্রহণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৬০,০০০ মেট্রিক টন উচ্চমানের গমের শিপমেন্ট গ্রহণ করা হয়। শিপমেন্টটি মোট ১,৭৩,০০০ মেট্রিক টনের বেশি গমের সরবরাহের অংশ, যেখানে ওয়াশিংটন, ওরেগন ও আইডাহো থেকে প্রায় ১,১৫,০০০ মেট্রিক টন সফট হোয়াইট গম এবং মন্টানা ও নেব্রাস্কা থেকে প্রায় ৬০,০০০ মেট্রিক টন হার্ড রেড উইন্টার গম অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের গমের মোট চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশই দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ হয়। ফলে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত এই গমের চালান দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিকর শস্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গমের ঘাটতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাড়ার ফলে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কও দৃঢ়তর হচ্ছে।
গত বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের গমচাষীদের বাণিজ্যিক সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটস (USWA) এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই স্মারকের আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ মেট্রিক টন গম ক্রয় করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে, আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ তিনটি বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করে মোট প্রায় ৬,৬০,০০০ মেট্রিক টন গম ক্রয় করেছে। এর মধ্যে ৩,৫০,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে, যা দেশের গমের চাহিদা মেটাতে বড় সহায়তা প্রদান করে।
এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন বাজার সুযোগ সৃষ্টি করে, যা আমেরিকান কৃষি খাতের বিকাশে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে পুষ্টিকর গমের ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করে।
গমের এই বড় চালান গ্রহণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক পণ্য প্রবাহে তার ভূমিকা বাড়িয়ে তুলেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে গমের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষি পণ্যের রপ্তানি-আমদানি বাড়িয়ে দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহের ভিত্তি গড়ে তুলবে, তবে গ্লোবাল বাজারের দামের ওঠানামা ও পরিবহন খরচের পরিবর্তন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই চুক্তির শর্তাবলী ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন এবং গমের বড় চালান গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশই কৃষি পণ্যের বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে।



