আইসিসি অধীন ১৯ বছর বয়সী বিশ্বকাপের সুপার সিক্স গ্রুপ ২ ম্যাচে বাংলাদেশি জুনিয়র টিগারস ইংল্যান্ডের কাছে সাত উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত হয়েছে। ম্যাচটি বুলাওয়ায় কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল বাংলাদেশের অর্ধচ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্নকে শেষ করে দেয়।
বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিংয়ে গিয়ে ৩৮.১ ওভারে মাত্র ১৩৬ রান তৈরি করতে সক্ষম হয়। ওপেনার জাওয়াদ আবরার তৃতীয় বলেই ছয় রান করে আউট হয়ে যায়, যা টিমের শুরুরই আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। রিফাত বেগের ৩১ এবং অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিমের ২০ রানের অংশীদারিত্ব ৪৬ রান তৈরি করলেও, তাদের পরের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিগারসের ব্যাটিং দ্রুত ভেঙে যায়।
বাটারদের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা কাজ করে, পেসার আল ফাহাদ প্রথম ওভারে দু’জন ইংল্যান্ডের ওপেনার জোসেফ মুরস (১) ও বেন ডকিন্স (২৭)কে সরিয়ে দেয় এবং ৯ম ওভারে স্কোরকে ৩৯/২ করে তোলেন। তবে ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন থমাস রেউ ও বেন মেয়ার্সের ৭৮ রান partnership শীঘ্রই টিমকে স্থিতিশীল করে এবং শিকড় গাঁটিয়ে দেয়।
ইংল্যান্ডের শিকড় ভাঙতে পারলেও, রেউ ৫০ ডেলিভারিতে ৫৯* রান করে অটুট রয়ে যায়। মেয়ার্স ৩৪ রান করে দলের স্কোরে অবদান রাখে, তবে সামিয়ুন বাসিরের হাতে আউট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ২৪.১ ওভারে ১৩৭/৩ স্কোরে লক্ষ্য অর্জন করে, ফলে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের পার্থক্যে হারে।
এই জয় দিয়ে ইংল্যান্ড পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে ছয় পয়েন্ট নিয়ে। ভারতের দল দ্বিতীয় স্থানে চার পয়েন্টে রয়েছে এবং দুইটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্যায়ে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করা বাংলাদেশ এখন গাণিতিকভাবে অর্ধচ্যাম্পিয়নশিপের দৌড় থেকে বাদ পড়েছে। শেষ সুপার সিক্স ম্যাচে জিম্বাবুয়ে বিরুদ্ধে জয় পেলেও সর্বোচ্চ তিন পয়েন্টই হবে।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর ২৫ রান নিয়ে মো. আবদুল্লাহ ছিলেন, আর ইংল্যান্ডের বোলিং দলে সেবাস্টিয়ান মরগান তিনটি উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন। রালফি আলবার্ট ও ম্যানি লামসেন প্রত্যেকেই দুইটি করে উইকেট নেন।
২০২০ সালে চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করা বাংলাদেশ ২০২২ ও ২০২৪ সালের টুর্নামেন্টে যথাক্রমে অষ্টম ও ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেছে। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে টিমের পারফরম্যান্সে স্থিতিশীলতা এখনও অর্জিত হয়নি।
পরবর্তী ম্যাচটি ৩১ জানুয়ারি হারারে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে নির্ধারিত, যেখানে টিগারসের একমাত্র লক্ষ্য হবে পয়েন্ট বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের জন্য আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করা। যদিও অর্ধচ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন শেষ হয়েছে, তবে দলটি এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের অবস্থান রক্ষা করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।



