22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামিরসরাইয়ে ৮৫০ একর জমিতে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত

মিরসরাইয়ে ৮৫০ একর জমিতে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাইতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (নেসো) এলাকার মধ্যে একটি সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল (মিলিটারি ইকোনমিক জোন) গড়ে তোলার নীতিগত অনুমোদন সরকার আজ প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি ২৬ জানুয়ারি রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিং‑এ জানানো হয়।

বিবরণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (BEZA) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এই ঘোষণার মুখ্য বক্তা ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, BEZA‑এর গভর্নিং বোর্ডের চতুর্থ সভায় এই পদক্ষেপটি অনুমোদিত হয়েছে। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি একই সঙ্গে BEZA‑এর গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান।

আশিক চৌধুরী জানান, পূর্বে নির্ধারিত ভারতীয় সরকার‑টু‑সরকার (জি‑টু‑জি) কাঠামোর অধীনে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট জমি বর্তমানে শূন্য এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। শূন্য জমিটিই এখন সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

মিরসরাইয়ের প্রায় ৮৫০ একর জমিতে এই সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে। এই এলাকা পূর্বে ভারতীয় প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ছিল, তবে প্রকল্পের বাতিলের পর জমি ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। এখন এই শূন্য জমি প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হবে।

প্রতিরক্ষা শিল্প উৎপাদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালু রয়েছে। সরকার উল্লেখ করে, বিশ্ববাজারে প্রতিরক্ষা পণ্যের চাহিদা ক্রমবর্ধমান এবং এই ক্ষেত্রটি দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত।

বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা শিল্পের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা আয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আশিক চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা অপরিহার্য। যুদ্ধের সময় সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটলে গোলাবারুদ ও অন্যান্য মৌলিক সামগ্রী ঘাটতি বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি সংঘাতে দেখা গেছে, উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের বদলে গুলি, ট্যাংকের যন্ত্রাংশের মতো মৌলিক উপাদানের ঘাটতি বেশি সমস্যার কারণ হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা দেশকে মৌলিক প্রতিরক্ষা উপাদান উৎপাদনে মনোযোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে গুলি ও ট্যাংক পার্টসের মতো মৌলিক উপাদান উৎপাদনের সম্ভাবনা এখনো মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। সরকার এই সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মিরসরাইয়ের নির্ধারিত জমি BEZA‑এর মাস্টার প্ল্যানে প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে এই এলাকা বিশেষভাবে সামরিক শিল্পের জন্য চিহ্নিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে।

এ পর্যন্ত অন্য কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়, তবে সরকার জানিয়েছে যে বিশ্বে বহু দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা পর্যায়ে ইতিমধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যৌথ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রতিষ্ঠা দেশের শিল্প ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতা অর্জনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়নে বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ রয়ে যাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments