হাটিয়া, নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের জাতীয় নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি ১৫-১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হওয়া জনগণের কষ্ট তুলে ধরে, এমন একটি গোষ্ঠী আবার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে জানান। সমাবেশে তিনি ঢাকার ভার্চুয়াল সংযোগের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন এবং উপস্থিত শ্রোতাদের সতর্কতা বজায় রাখতে আহ্বান জানান।
তারেকের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটদান শেষ হওয়ার পর ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করা যথেষ্ট নয়; ভোটারদের ভোটের সঠিক গণনা নিশ্চিত করতে ভোটের পরেও কেন্দ্রে অবস্থান রাখতে হবে। তিনি সমর্থকদের প্রশ্ন করেন, “আপনি কি ভোটের পরেও সেখানে থেকে ফলাফল নিশ্চিত করতে পারবেন?” এমন প্রত্যাশা তিনি সক্রিয়ভাবে তুলে ধরেন। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধরনের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন।
সমাবেশে তারেকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ ছিল, ভোটের ফলাফল ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত সমর্থকরা কেন্দ্রে অবস্থান বজায় রাখুক। তিনি উল্লেখ করেন, “শুধু ভোটই নয়, ভোটের পরের পর্যবেক্ষণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।” এই নির্দেশনা তারেকের মতে, নির্বাচনের ফলাফলকে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করবে।
তারেক সমাবেশে উপস্থিত না হতে পারার জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেন, নির্বাচনী কমিশনের সীমিত সময়সীমা তাকে সরাসরি উপস্থিতি থেকে বাধা দিয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “এইবার কমিশন খুবই কম সময় দিয়েছে, ফলে সরাসরি আসা কঠিন হয়ে পড়েছে।” এই কারণেই তিনি ভার্চুয়ালভাবে যুক্ত হয়েছেন।
সমাবেশের মূল অংশে তারেক সাতটি উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন করেন, যা বিএনপি শাসনভুক্ত হলে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে নদী ক্ষয় রোধের জন্য ব্লক ব্যারেজ নির্মাণ, ভূমিহীনদের জন্য স্থায়ী খাস জমি প্রদান, এবং উপজেলা হাসপাতালের বেড সংখ্যা ১৫০ পর্যন্ত বৃদ্ধি।
প্রথম তিনটি প্রতিশ্রুতিতে তিনি বলেন, “ব্লক ব্যারেজের মাধ্যমে নদীর ক্ষয় রোধ করা হবে এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।” এছাড়া ভূমিহীন জনগণের জন্য সরকারীভাবে নির্দিষ্ট জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে, যা তাদের স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করবে। তদুপরি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন করে ১৫০ বেডের ক্ষমতা প্রদান করা হবে, যাতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নত হয়।
পরবর্তী তিনটি প্রতিশ্রুতিতে তিনি জাহাজমারা ইউনিয়নকে উপজেলা স্তরে উন্নীত করার কথা বলেন, যা প্রশাসনিক সুবিধা ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া, ব্লক ব্যারেজের পাশাপাশি টেকসই পলি-ইমবেডমেন্টের মাধ্যমে নদীর তীর রক্ষা করা হবে। তৃতীয়টি হল, ভূমিহীনদের জন্য স্থায়ী খাস জমি প্রদান, যা তাদের জীবিকায় স্থিতিশীলতা আনবে।
শেষ প্রতিশ্রুতি হিসেবে তিনি নিঝুম দ্বীপকে আধুনিক পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। নিঝুমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা, স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আয় বাড়ানোর লক্ষ্য তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক সমাবেশে সকল ধর্মের মানুষের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান, “এই দেশ আমাদের প্রথম ও শেষ গন্তব্য; একসাথে কঠোর পরিশ্রমে দেশ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি দেশের ঐক্য ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সামাজিক সংহতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
হাটিয়া উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমস্যাগুলো নিয়ে তারেকের মন্তব্যে দেখা যায়, এই অঞ্চলটি সুন্দর হলেও অবকাঠামো ও পরিবেশগত সমস্যায় ভুগছে। তিনি আশ্বাস দেন, যদি বিএনপি শাসনে আসে তবে এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে তারেকের এই সতর্কতা ও প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে। তিনি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে ফলাফল ঘোষণার পর কী ধরনের রাজনৈতিক গতিপথ গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



