28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনড়াইলের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, জামায়াত-এ-ইসলামি ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশে তর্কের পরিণতি

নড়াইলের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, জামায়াত-এ-ইসলামি ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশে তর্কের পরিণতি

নড়াইল-১ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আজিজের নির্বাচনী অফিসে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থল নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী তিন দোকান এলাকায় অবস্থিত। রাত্রিকালীন তর্কের পর অফিসে আগুন লাগা ও সম্পত্তি ধ্বংসের খবর স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের মধ্যে ভোট চাওয়ার বিষয় নিয়ে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়। উভয় দলের কর্মীরা বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে একে অপরের ওপর অভিযোগ তুলতে থাকে। তর্কের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তবে উভয় সংগঠনের সিনিয়র নেতার হস্তক্ষেপে রাত্রিকালেই বিষয়টি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

শান্তি বজায় রাখার পরেও রাতের শেষভাগে অজানা ব্যক্তিরা অফিসের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে। মাইক্রোফোন, চেয়ারের মতো অফিসের মৌলিক সামগ্রী এবং হাতপাখা-প্রতীকসহ সবকিছু অগ্নিতে পুড়ে গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধ্বংসের পথে পৌঁছায়।

সকালবেলায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নড়াইল জেলা শাখার সেক্রেটারি এস এম নাসির উদ্দিন ও অন্যান্য কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু থেকেই এই অফিসটি ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং রাত্রিকালীন তর্কের মাঝেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়িত্বশীলদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিছালী ইউনিয়নের জামায়াত-এ-ইসলামি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. হাসিবুর মোল্যা তর্কের পর মীমাংসা ঘটেছে বলে দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তর্কের পর সবাই সন্তুষ্ট হয়ে চলে গিয়েছিল এবং অফিসে আগুনের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ নেই। তবু তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত।

নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক অজয় কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং কোনো সন্দেহভাজন চিহ্নিত করা হয়নি।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নড়াইলের নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় দলের সমর্থকরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারণার স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াত-এ-ইসলামি উভয়ই এখনো ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছে। উভয় সংগঠনই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘর্ষে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান করা হচ্ছে। নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিযোগিতা বজায় রাখা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু চলাচলের জন্য অপরিহার্য বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments