গাজীপুরের পাবাইল রেলস্টেশনের বাজার গেট এলাকায় আজ সকাল প্রায় ১০:৪৫টায় একটি ট্রেনের ধাক্কায় এক মা ও তার দুই সন্তান প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন। ঘটনাস্থলটি তিতাস কমিউটার ট্রেনের ব্রাহ্মণাবাড়িয়া দিকের পথে অবস্থিত।
মৃতদেহের পরিচয় হয় ৩৫ বছর বয়সী হাফেজা খাতুন, তার ৮ বছর বয়সী মেয়ে তাবাস্সুম এবং ৫ বছর বয়সী পুত্র মারুফ। সকলের নাম ও বয়স স্থানীয় পুলিশ রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
হাফেজা তার শ্বশুরবাড়িতে সন্তানসহ বসবাস করতেন এবং একই সকালে স্বামীর সঙ্গে তীব্র তর্কের পর বাড়ি ছেড়েছিলেন। তর্কের কারণ ও বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
সকালবেলা হাফেজা তার মেয়েকে স্কুলের ইউনিফর্ম পরিয়ে পাঠাতে বেরিয়ে যান। প্রায় ১০:৪৫টায় তিনি ও তার সন্তানরা পাবাইল বাজার গেটের পূর্বের সিগন্যাল এলাকায় পৌঁছে, যেখানে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ব্রাহ্মণাবাড়িয়া দিকের গতি বাড়ছিল।
সাক্ষী বিবরণ অনুসারে হাফেজা ও তার দুই সন্তান ট্রেনের পথে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ট্রেনের গতি তাদের ওপর আঘাত হানে। তৎক্ষণাৎ তিনজনই স্থানেই প্রাণ হারান।
পাবাইল থানা অফিসার ইন চার্জ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানিয়েছেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি এবং ব্যাপক তদন্ত চলছে।
রেলওয়ে পুলিশ নরসিংদি রেলস্টেশনের কর্মকর্তা জানান, ট্রেনের ধাক্কা থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে।
নরসিংদি রেলস্টেশন মাষ্টারও উল্লেখ করেছেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গণতান্ত্রিক আইন অনুসারে এই ধরনের ঘটনার তদন্তে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন, ফলে মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। বর্তমানে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিগন্যাল রেকর্ড এবং সাক্ষী বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে এবং মামলাটির ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করা হবে।



