ডেলসি রদ্রিগেজ, ভেনেজুয়েলা সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পুয়ের্তো লা ক্রুসের তেলশ্রমিক সমাবেশে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন সরকারের নির্দেশনা অতিরিক্ত হয়ে গেছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান ভেনেজুয়েলা নিজেই করবে। এই বক্তব্য টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত হয় এবং সিএনএন নিউজের রিপোর্টে প্রকাশ পায়।
ডেলসি রদ্রিগেজের রাজনৈতিক অবস্থান শুরুর থেকেই জটিল। তিনি মার্কিন সরকারের সমর্থনে ক্ষমতায় আসলেও দেশীয় মাদুরোপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা বজায় রাখতে চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে, মার্কিন সরকারের প্রত্যাশা পূরণে চাপের মুখে থেকেও তিনি স্বতন্ত্র নীতি অনুসরণের সংকেত দিচ্ছেন।
বক্তব্যের মূল অংশে রদ্রিগেজ স্পষ্ট করে বলেন, “ওয়াশিংটনের নির্দেশ—অনেক হয়েছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও মতপার্থক্য ভেনেজুয়েলাই সমাধান করবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন পুনরায় শুরু করার দাবির প্রতি বিরোধিতা করে, দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই বক্তব্যটি পুয়ের্তো লা ক্রুসের তেলশ্রমিকদের সমাবেশে দেওয়া হয়, যেখানে শ্রমিকরা তেল ক্ষেত্রের পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিল। রদ্রিগেজ উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার সমাধানে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন সরকারের চাপের মধ্যে রদ্রিগেজ তেল উৎপাদন পুনরায় শুরু করার দাবি এবং অন্যান্য শর্তের বিরোধিতা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তেল শিল্পের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এই অবস্থানটি ভেনেজুয়েলা সরকারের পূর্বের নীতি থেকে ভিন্নতা নির্দেশ করে।
রদ্রিগেজের এই প্রকাশের পর বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, তিনি মার্কিন সরকারের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেও এখন তার নীতি ওয়াশিংটনের বিরোধে পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তন ভেনেজুয়েলা রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রদ্রিগেজের এই দৃঢ় অবস্থান ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সমাধানে নতুন দিকনির্দেশনা হতে পারে। তিনি দেশের ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় যে মূল্য দিতে হয়েছে, তা উল্লেখ করে দেশের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
ভেনেজুয়েলা সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে এই ধরনের স্বতন্ত্র নীতি গ্রহণের ফলে সরকারী গোষ্ঠী ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। রদ্রিগেজের বক্তব্যের ফলে মার্কিন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নও সম্ভব হতে পারে।
পরবর্তী সময়ে রদ্রিগেজের সরকার তেল শিল্পের পুনরায় চালু হওয়া, আন্তর্জাতিক ঋণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে, দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও বিরোধের মাত্রা নির্ধারণে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রদ্রিগেজের এই প্রকাশের পর ভেনেজুয়েলা সরকারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন রূপান্তর দেখা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের পুনর্গঠন, তেল শিল্পের স্বায়ত্তশাসন এবং দেশীয় নিরাপত্তা নীতির সমন্বয় ভবিষ্যতে কীভাবে হবে তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
সারসংক্ষেপে, ডেলসি রদ্রিগেজের ওয়াশিংটন নির্দেশের বিরোধিতা ভেনেজুয়েলা সরকারের স্বতন্ত্র নীতি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তার বক্তব্য দেশীয় স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনঃমূল্যায়নের সূচনা হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলা সরকার কীভাবে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



