পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের শাপলা কালি প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ২৬ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকায় অনুষ্ঠিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের পর গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল বিদেশি হস্তক্ষেপের শেষ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দেশের যুব প্রজন্মের ভূমিকা।
বৈঠকে উপস্থিত বিশাল জনসমাগমের মাঝে সারজিস আলম তার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে বা বাইরে বসে কোনো দেশ বা অন্য কোনো এজেন্সি বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে ওইদিন আর নেই। তিনি যোগ করেন, ‘এই তরুণ প্রজন্ম বিপ্লবী প্রজন্ম অভ্যুত্থানের প্রজন্ম এখনো ঘুমায় নাই। তারা জেগে আছে। যে কোনো সময় প্রয়োজনে মাঠে নামবে।’
এই মন্তব্যের পর তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে মানুষের ব্যাপক সারা পাচ্ছি। মানুষ শুধু একটা কথাই বলছে- আমরা এখন চুপচাপ আছি কিন্তু ভোটের দিন আপনারা ব্যালটের বিপ্লব দেখবেন। ইনশাল্লাহ আমরা যদি ১২ ফেব্রুয়ারি একটা স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতে পারি প্রশাসন থেকে সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতায় তাহলে পঞ্চগড়-১ আসন না পুরো বাংলাদেশে ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ এবার গঠন করবে ইনশাল্লাহ।’
সারজিস আলমের মতে, স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা এবং সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দিন যদি নির্ভুলভাবে পরিচালিত হয়, তবে জাতীয় পর্যায়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ে সরকার গঠন সম্ভব হবে।
এছাড়া তিনি অতীতের অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব দল ও সংগঠনকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রশাসন থেকে শুরু করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ অভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন- সবাই ঐক্যবদ্ধ, একটি সুষ্ঠু স্বচ্ছ ও অবাধ একটা নির্বাচনের জন্য দাবি করে।’
এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে, তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যুব প্রজন্মের ভূমিকা সম্পর্কে কথা বলার সময় তিনি পঞ্চগড়ের তরুণদের অতীতের লড়াইয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড়ের তরুণ প্রজন্ম যেমন অভ্যুত্থানের লড়াই করে এই পঞ্চগড়কে মুক্ত করেছে, পুরো বাংলাদেশের প্রজন্ম বাংলাদেশকে মুক্ত করার কাজ করেছে একইভাবে।’
আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি দুইটি মূল কাজের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুইটা কাজ করতে পারি- এক প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জায়গায় রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা এবং প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের সঙ্গে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা; যা আমরা নির্বাচিত হলে করবো।’
আসন্ন নির্বাচনের প্রতি জনমতের দিক থেকে তিনি জানান, ভোটার ও দেশের মানুষ জাতীয় নাগরিক দলের পক্ষে-১১ দলীয় জোটের শাপলা কালি প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জোটের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও ভোটারগণ।
সারজিস আলমের বক্তব্যের পর উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা তালি ও উল্লাসের সঙ্গে তার মন্তব্যকে স্বাগত জানায়।
এই ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ নির্বাচনের পূর্বে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা



