23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অফিসে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনা অনুসারে, কোনো সরকারি বা বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি, ব্যবহার বা প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গতকাল এই নির্দেশনা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করেছে। নির্দেশনায় তামাকমুক্ত ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট সাইনেজ স্থাপনের বাধ্যতামূলকতা উল্লেখ করা হয়েছে।

মাউশির মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, নতুন আদেশে তামাক শিল্পের কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রচারণা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

এই আদেশে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাকমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করতে এবং সাইনেজ প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। সাইনেজে তামাকমুক্ত নীতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (FCTC) অনুযায়ী তামাকের যেকোনো ধরণের সমর্থন শিক্ষা পরিবেশে অনুমোদিত নয়। নতুন নির্দেশনা এই আন্তর্জাতিক চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তামাক নিষেধের পাশাপাশি, নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবার ও উচ্চ চিনি যুক্ত পানীয়ের বিপণন সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘হেলদি ক্যান্টিন’ স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিনে স্বল্প লবণ, কম চিনি এবং ট্রান্স-ফ্যাটমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি সভা ও সমাবেশে ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে তাজা ফল, বাদাম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স সরবরাহের নির্দেশনা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মচারীদেরও পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাবে।

শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ব্যায়াম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে দৌড়, সাইক্লিং বা দলগত খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, সেখানে ইনডোর কার্যক্রমের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া, শিশুদের জন্য সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ এবং কর্মীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ডেস্ক-ভিত্তিক স্ট্রেচিং ব্যায়াম চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অবকাঠামো দিক থেকে, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য সিঁড়ি ও র‍্যাম্পসহ সহজগম্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার এবং সাইক্লিংকে উৎসাহিত করার নীতি উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সব পদক্ষেপের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বাস্থ্য সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। তামাকমুক্ত ও পুষ্টিকর ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments