অ্যান্টিগুয়া দ্বীপের গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত Pineapple Road ফার্মে গাঁজা চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। মাস্টার কুলটিভেটর মাইকেলাস ট্রেসি নেতৃত্বে মোট নয়টি ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রেইন চাষ করা হচ্ছে, যা দেশীয় বাজারের চাহিদা এবং রপ্তানি সম্ভাবনা উভয়ই লক্ষ্য করে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে গাঁজা উৎপাদন ও বিক্রয়ের আইনি কাঠামো সম্প্রতি শক্তিশালী হওয়ায় এই উদ্যোগের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট।
পাইনঅ্যাপল রোড ফার্মটি উষ্ণ তাপমাত্রা, প্রচুর সূর্যালোক এবং উচ্চ আর্দ্রতা সহ আদর্শ কৃষিকাজের পরিবেশে অবস্থিত। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো গাছের দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্চ মানের ফ্লাওয়ার উৎপাদনে সহায়তা করে। ফার্মের বিস্তৃত সারি ও সুশৃঙ্খল রোডম্যাপের মাধ্যমে চাষের প্রক্রিয়া সহজে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
ট্রেসি বিভিন্ন স্ট্রেইনের স্বাদ ও প্রভাবের বৈচিত্র্য অর্জনের জন্য কঠোর পরীক্ষামূলক কাজ পরিচালনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, চাষকৃত গাছগুলোকে শিথিলতা, শক্তি বৃদ্ধি, ব্যথা উপশম এবং উদ্বেগ কমানোর মতো চিকিৎসা গুণাবলীর ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি স্ট্রেইন ভিন্ন ভিন্ন রোগীর প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম।
গাঁজা সম্পর্কিত আইনগত পরিবর্তন ক্যারিবিয়ান জুড়ে গত দশকে দ্রুত ঘটেছে। জামাইকা দশ বছর আগে অবৈধ ব্যবহার দণ্ডমুক্ত করে চিকিৎসা উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বিক্রয়কে বৈধ করে তুলেছিল। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা ২০১৮ সালে একই ধরণের আইন প্রণয়ন করে, যা অঞ্চলকে গাঁজা শিল্পের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
বর্তমানে ক্যারিবিয়ানে বহু নিবন্ধিত গাঁজা ফার্ম এবং চিকিৎসা ডিসপেন্সারি কার্যক্রমে রয়েছে। বৈধ চিকিৎসা অনুমোদন পত্রধারী স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক উভয়ই এই ডিসপেন্সারিগুলো থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারেন। এই ব্যবস্থা গাঁজাকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টিতে সহায়তা করছে।
ক্যারিবিয়ান গাঁজা শিল্পের বিশ্লেষক রোজ-মেরি বেল অ্যান্টোয়েনের মতে, শুধুমাত্র অপরাধমুক্তিকরণ পর্যাপ্ত নয়; সম্পূর্ণ বৈধীকরণ এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তিনি ক্যারিবিয়ান কমিউনিটি (CARICOM) এর মারিজুয়ানা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ার এবং ট্রিনিডাডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ দ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যাম্পাস প্রধান। তার মন্তব্য শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য নীতিগত পরিবর্তনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, দেশীয় চাহিদা বৃদ্ধি পেলে রপ্তানি সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু দেশ ইতিমধ্যে গাঁজা পণ্যের জন্য উচ্চ মানের চাহিদা প্রকাশ করেছে, যা অ্যান্টিগুয়ার ফার্মগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে। বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি চ্যানেল গড়ে তোলা লাভজনক ব্যবসা মডেল হতে পারে।
তবে নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় সরকার যদি কঠোর লাইসেন্সিং এবং গুণগত মানের মানদণ্ড প্রয়োগ না করে, তবে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ ও মূল্য হ্রাসের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া গাঁজার বৈধতা নিয়ে গ্লোবাল বিতর্কের ফলে রপ্তানি চুক্তি স্থগিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অ্যান্টিগুয়া ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের গাঁজা চাষ এখন কেবল স্থানীয় চিকিৎসা চাহিদা পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশীয় বিক্রয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানির মাধ্যমে আয় বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সুযোগ হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। নীতি সংস্কার এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর উন্নতি এই শিল্পের টেকসই বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হবে।



