সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, সেনাসদরে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচন দেশের দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণের ২৪ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত দাবির চূড়ান্ত প্রকাশ হবে।
বৈঠকের শুরুতে সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে ইউনূসকে স্বাগত জানায় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সমন্বয় বিষয়ক আলোচনা করেন।
প্রফেসর ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি ২৪ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তা এই নির্বাচনে ভোটদান হিসেবে সর্বোচ্চ প্রকাশ পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, শঙ্কামুক্ত ও উৎসবমুখর নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও সতর্কতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, ইউনূস বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো পক্ষপাতিত্ব না থাকলে ভোটারদের অংশগ্রহণে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং ফলস্বরূপ নির্বাচন ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া সহজ হবে।
সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় বাহিনীর সক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার এই অবহেলাকে দূর করে, বাহিনীর স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও যুগোপযোগী ক্ষমতা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
এই দিক থেকে ইতিমধ্যে দেশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা অধীনে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বাহিনীর সরবরাহ শৃঙ্খল স্বনির্ভর করা এবং বিদেশি নির্ভরতা কমানো লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যৌথ প্রশিক্ষণকে সহজ করবে। পাশাপাশি ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অতিরিক্ত সরঞ্জাম ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারগুলোর জন্যও নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ অফিসারসহ তিনটি সেবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী একমত যে, নির্বাচনের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের এই নির্দেশনা অনুসরণ করে, বাংলাদেশ সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বীকৃতিকে শক্তিশালী করবে।



