বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানা আজ (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে স্বামী গায়েবের মামলায় নতুন মোড় পেয়েছে। স্বামী কাজলকে খুঁজে পেতে তার স্ত্রী সনিয়া ১০,০০০ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন।
কাজল ফজলুর রহমানের ছেলে, যিনি আদমদীঘি থানা অধীনে অবস্থিত ইয়ার্ড কলোনির বাসিন্দা। প্রায় এক দশক আগে তিনি একই এলাকার সনিয়া নামের এক নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দম্পতির দু’টি সন্তান আছে – এক পুত্র ও এক কন্যা।
মামলার সূত্রে জানা যায়, কাজল দীর্ঘদিন ধরে সনিয়ার প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। এই নিপীড়নের পরিণতিতে সনিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত, ২৪ জানুয়ারি সকাল প্রায় ১১ টার দিকে কাজল দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা হাতে নিয়ে বাড়ি থেকে অদৃশ্য হন।
সনিয়া কাজলকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালান। অনুসন্ধানের মাঝখানে তিনি জানেন, স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি আত্মবিশ্বাসী হন যে স্বামী গায়েব এবং তার অবস্থান নির্ণয় করা জরুরি।
কাজলের দু’টি মোবাইল নম্বরে বারবার কল করার পরেও কোনো সাড়া পাননি। কখনো ফোন বন্ধ থাকে, কখনো কলের উত্তর না দিলেও রিসিভ না করা যায়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সনিয়াকে হতাশ করে এবং তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।
সন্ধ্যায় সনিয়া আদমদীঘি থানা-তে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীকে ধরতে সহায়তা করা যেকোনো ব্যক্তিকে ১০,০০০ টাকার পুরস্কার প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান, স্বামীকে ধরতে সাহায্য করা হলে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
আদমদীঘি থানা অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রমাণ সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানা কর্মকর্তারা জানান, কাজলের গায়েব হওয়া এবং তার সঙ্গে অন্য নারীর সম্পর্কের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, স্বামীর ফোন নম্বর, ব্যাংক লেনদেন এবং যাত্রাপথের সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণ করা হবে।
সনিয়া এই ঘটনার পর মানসিক শোকের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। তিনি আশাবাদী যে সমাজের সহায়তা ও পুলিশের ত্বরিত পদক্ষেপে স্বামীকে দ্রুত ধরা যাবে।
এই মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও আপডেটের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। স্বামী গায়েবের সন্ধান এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতি ভবিষ্যতে প্রকাশিত হবে।



