মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা ২০২৫ সালে নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই বছর প্রতি ২০ মিনিটে এক ভারতীয়কে সীমান্তে আটক করা হয়েছে। মোট ২৩,৮৩০ ভারতীয় নাগরিককে এই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও পূর্ববর্তী বছর ২০২৪-এ একই ধরনের কার্যক্রমে ৮৫,১১৯ ভারতীয় ধরা পড়েছিল।
এই হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এর বর্ধিত অভিযান উল্লেখ করা হচ্ছে। সীমান্তে টহল বাড়ানো, পাচার নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং শাস্তি কঠোর করার ফলে অবৈধ প্রবেশের সংখ্যা কমেছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তবু, যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নে আকৃষ্ট হওয়া ভারতীয়দের সংখ্যা শূন্যে পৌঁছায়নি।
ধরাবাহিকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ধরা পড়া ব্যক্তি একক প্রাপ্তবয়স্ক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিভাবকবিহীন শিশুদের সংখ্যা বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে, যা মানবিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাগুলি বিশেষ করে ছোট বয়সী শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি দাবি করছে।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে তীব্র শীতলতায় গুজরাটের একটি পরিবার চারজন সদস্যের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করে। এই দুঃখজনক ঘটনা থেকে চার বছর পরেও সীমান্তে অনাথ শিশুরা পাওয়া যায়, যা অবৈধ অভিবাসনের মানবিক দিককে আরও জটিল করে তুলেছে।
অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়া সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবনের আকাঙ্ক্ষা ভারতীয়, বিশেষ করে গুজরাটীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও প্রবল। এক ভারতীয় অভিবাসন পর্যবেক্ষণকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, “ট্রাম্প সরকারের নীতি ও ICE এর বৃহৎ অভিযান সংখ্যা কমিয়েছে, তবে গুজরাটের মানুষদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন এখনও অটুট।” এই মন্তব্যটি সরকারী তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দেখায় যে নীতি পরিবর্তন সত্ত্বেও প্রবেশের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি।
ধরা পড়া ব্যক্তিরা সাধারণত প্রথমে সীমান্তে প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদে মুখোমুখি হয়। এরপর তাদেরকে ICE এর অধীনে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তারা অভিবাসন আদালতে শোনার সুযোগ পায়। আদালতে প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে, অধিকাংশকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়; তবে কিছু ক্ষেত্রে শরণার্থী বা মানবিক ভিত্তিতে রিলিফের আবেদনও দাখিল করা হতে পারে।
অভিবাসন আদালতের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং ধরা পড়া ব্যক্তিদের জন্য অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তৈরি করে। এই সময়ে, পরিবারগুলো প্রায়ই আর্থিক ও মানসিক চাপে ভুগে, বিশেষ করে যখন সন্তানসহ পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। সরকারী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণের জন্য চাপ দিচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের প্রচেষ্টা কমলেও, প্রতি ২০ মিনিটে এক ভারতীয়কে ধরা পড়া একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা রয়ে গেছে। কঠোর নীতি, বাড়তি টহল এবং কঠোর শাস্তি সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নে আকৃষ্ট হওয়া ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা শূন্যে নামেনি। ভবিষ্যতে নীতি ও মানবিক দিকের সমন্বয় কীভাবে গড়ে উঠবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



